সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বসেছে বিভাগীয় বৃক্ষমেলা। আর এই মেলায় দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে অদ্ভুত দেখতে এক ফলের গাছ। লাল রঙের লোমশ ফল ঝুলছে গাছজুড়ে। দূর থেকে দেখতে অনেকটা ফুলের মতো হওয়ায় অনেকেই কৌতূহলী হয়ে গাছটির কাছে ভিড় করছেন। তবে ফল ছোঁয়া নিষেধ—এমন সতর্কবার্তাও রয়েছে গাছটির পাশে।
মেলার ৭ নম্বর স্টলে গাছটি এনেছে সিলেট নার্সারি। নার্সারির মালিক মলয় লাল ধর জানান, ফলটির নাম রামবুটান। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ মালয় দ্বীপপুঞ্জকে এই ফলের আদি অঞ্চল হিসেবে ধরা হয়। সিলেটের এই বৃক্ষমেলায় প্রদর্শনের পাশাপাশি ভালো দাম পেলে ফলসহ গাছটি বিক্রিরও পরিকল্পনা রয়েছে।
রামবুটান নামটির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে এর চেহারার বৈশিষ্ট্য। মালয় ও ইন্দোনেশীয় ভাষায় ‘রামবুট’ শব্দের অর্থ চুল। ফলের খোসায় চুলের মতো নরম তন্তু থাকায় এর নাম হয়েছে রামবুটান।
পাকা রামবুটান দেখতে লাল, মেরুন, কমলা কিংবা হলুদ হতে পারে। বাইরের লোমশ খোসা ছাড়ালে ভেতরে পাওয়া যায় লিচুর মতো রসালো শাঁস ও একটি শক্ত বীজ। স্বাদে মিষ্টির সঙ্গে হালকা টকভাব থাকায় ফলটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বেশ জনপ্রিয়।
বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে রামবুটানের ব্যাপক উৎপাদন হয়। এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশেও এর চাষ রয়েছে। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এই বিদেশি ফলের চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
রামবুটানে ভিটামিন সি, আঁশসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। ফলে ফলটি নিয়ে ভোক্তা ও কৃষি উদ্যোক্তাদের আগ্রহও তৈরি হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য উপকারের দাবি করার ক্ষেত্রে পরিমাণ ও ব্যক্তিভেদে পার্থক্য থাকতে পারে।
নার্সারি মালিক মলয় লাল ধর জানান, প্রায় তিন বছর আগে তিনি কয়েকটি রামবুটানের চারা সংগ্রহ করেন। পরিচর্যার পর সেগুলোর কয়েকটিতে ফলন আসে। মেলার জন্য রাখা গাছটিতেও এবার বেশ ভালো ফল ধরেছে।
তার নার্সারিতে ফলসহ বড় গাছের পাশাপাশি রামবুটানের চারা ও কলমও রয়েছে। পাঁচ থেকে ছয় ফুটের চারার দাম প্রায় এক হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। আর দুই থেকে তিন ফুটের কলম গাছও বিক্রি করছেন তিনি।
তবে ফলসহ প্রদর্শিত গাছটির দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। মলয় লাল ধর গাছটির দাম চেয়েছেন এক লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। আরও ভালো প্রস্তাব পেলে গাছটি বিক্রি করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তার মতে, বাংলাদেশে রামবুটান চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শুধু চারা কিনে লাগালেই হবে না—মাটির ধরন, পরিবেশ এবং নিয়মিত পরিচর্যার বিষয়ে সঠিক জ্ঞান নিয়েই এই ফলের চাষে নামতে হবে।