সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে দেশে ফিরেছেন চার বাংলাদেশি হাফেজ। শুক্রবার সকালে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বিমানবন্দরে নামার পর ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা তাদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ অসুস্থ থাকায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁর নির্দেশেই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে গিয়ে বিজয়ীদের স্বাগত জানান।
হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আয়াতুল ইসলামের নেতৃত্বে আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী, ঢাকা হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন এবং মন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. মাহবুব আলম।
এর আগে ১৯ আগস্ট পবিত্র মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। মক্কা অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সাউদ বিন মিশাল বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করেন।
প্রতিযোগিতার চতুর্থ গ্রুপের পুরুষ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন বাংলাদেশের মুহাম্মদ জাকারিয়া। অসাধারণ এই সাফল্যের জন্য তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল।
একই গ্রুপের নারী বিভাগে তৃতীয় হয়েছেন রাবেতা বিনতে রমজান। তার পুরস্কারের অর্থ ১ লাখ ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল।
এ ছাড়া তৃতীয় গ্রুপে পুরুষ বিভাগে শেখ মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান এবং নারী বিভাগে মুসফিরা বিনতে মাহমুদ তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। দুজনের প্রত্যেকেই পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল।
চার বিজয়ীর মধ্যে মুহাম্মদ জাকারিয়া নারায়ণগঞ্জের সানারপাড়ের আর-রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী। শেখ মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান পড়াশোনা করছেন রাজধানীর ডেমরার মারকাযুল মাদীনা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায়।
রাবেতা বিনতে রমজান উত্তরার তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফজ মাদরাসার শিক্ষার্থী। আর মুসফিরা বিনতে মাহমুদ পুরান ঢাকার ওয়ারীর সাওদা বিনতে যামআহ আন্তর্জাতিক বালিকা হিফজ মাদরাসায় অধ্যয়ন করছেন।
পাঁচটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে মোট ৫০ জন পুরস্কৃত হয়েছেন। বাংলাদেশি এই চার হাফেজকে বাছাই করে সৌদি আরবে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় চার বাংলাদেশির এমন সাফল্য দেশের জন্যও বয়ে এনেছে গৌরব।