রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তাঁর দাবি, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আগে থেকেই ফলাফল অনুমান করা সম্ভব ছিল। তাই তিনি এই ভোটকে অর্থবহ নির্বাচন হিসেবে দেখেননি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে। ভোট শেষে গণনায় বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
তবে ভোটদানে বিরত থাকেন রুমিন ফারহানা। গণমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, যে নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকেই জানা থাকে, সেখানে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে না। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিকে নির্বাচন না বলে মনোনয়ন প্রক্রিয়া বলা যায়।
রুমিন ফারহানার বক্তব্য, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সেই বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি পদে একজন অরাজনৈতিক, গ্রহণযোগ্য ও সবার কাছে সম্মানিত ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই পথ অনুসরণ করা হয়নি বলে তিনি মনে করেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি।
এ ছাড়া ভোটের আগে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তোলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার বাস্তব সুযোগ না থাকলে সংসদীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কতটা অর্থবহ, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
রুমিন আরও বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সংস্কার ও ভিন্নধারার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথা বলে আসছে। কিন্তু দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সদস্যপদ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হলে সেটি সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রুমিন ফারহানা ছাড়াও আরও পাঁচ সংসদ সদস্য ভোট দেননি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকা বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা, বিএনপির ওসমান ফারুক, খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
ভোট না দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নিজের আপত্তিই তুলে ধরেছেন রুমিন ফারহানা—এখন তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।