ইসলাম ডেস্ক: জীবনের প্রয়োজন মেটাতে মানুষকে নানা সময় ঋণ কিংবা আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। ইসলামে এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর কাছে সাহায্য ও হালাল রিজিক প্রার্থনা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ঋণ থেকে মুক্তি এবং হালাল উপার্জনে বরকতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া রয়েছে, যা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
দোয়াটি হলো—
اَللّهُمَّ اكْفِنِى بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَاغْنِنِى بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়াগনিনী বিফাদ্বলিকা আম্মান সিওয়াক।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার হালাল রিজিক দিয়ে আমাকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে যথেষ্ট করে দিন। আপনার অনুগ্রহে আপনি ছাড়া অন্য সবার মুখাপেক্ষিতা থেকে আমাকে মুক্ত করুন।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আলী (রা.)-এর কাছে এক মুকাতিব ব্যক্তি সাহায্যের আবেদন করেন। মুকাতিব বলতে এমন দাসকে বোঝানো হয়, যে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে মুক্তি পাওয়ার জন্য লিখিত চুক্তিতে আবদ্ধ ছিল।
ওই ব্যক্তি নিজের নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় হজরত আলী (রা.)-এর কাছে সহযোগিতা চান। তখন আলী (রা.) তাকে উপরোক্ত দোয়াটি শেখান। তিনি জানান, এই দোয়াটি রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন।
হজরত আলী (রা.) আরও বলেন, কারও ওপর পাহাড়সম ঋণ থাকলেও এই দোয়া পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা তার পক্ষ থেকে সেই ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। (সুনানে তিরমিজি: ৩৫৬৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর কাছে উত্তম ও হালাল রিজিক কামনা করতেন। বিভিন্ন হাদিসে তাঁর এমন অনেক দোয়া পাওয়া যায়, যেখানে দারিদ্র্য ও অভাব থেকে আশ্রয় চাওয়ার পাশাপাশি পবিত্র ও উত্তম জীবিকার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।
তাই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে মুসলমানদেরও আল্লাহর কাছে হালাল ও বরকতময় রিজিকের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।
রিজিক শুধু খাবার ও পানীয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের জীবনযাপনে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া সব ধরনের উপকরণ, সুযোগ-সুবিধা ও নিয়ামতই রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। খাদ্য, পানীয়, পোশাক, বাসস্থান, শিক্ষা এবং জীবনধারণের প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধাও এর আওতায় পড়ে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই। (সুরা হুদ: ৬)
অর্থাৎ পৃথিবীর সব জীবের জীবিকা আল্লাহ তাআলার জিম্মায়। তিনিই তাঁর সৃষ্টিকে রিজিক দান করেন।
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি পরম দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা রিজিক দান করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী। (সুরা শুরা: ১৯)
সুতরাং অভাব, ঋণ বা আর্থিক সংকটে হতাশ না হয়ে হালাল উপায়ে চেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর ওপর ভরসা করে নিয়মিত দোয়া করা উচিত।