রাজধানীর গোপীবাগে ধার নেওয়া মাত্র ২০ টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার সামনেই এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় ২৫ বছর পর মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১৩-এর বিচারক জাহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামি মনির হোসেনকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০১ সালের ৪ ডিসেম্বর বিকেলে গোপীবাগ এলাকার একটি মসজিদে নামাজ আদায় শেষে বের হন নজির আহম্মদ।
বাড়ি ফেরার পথে তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা তার ছেলে বিপ্লব বশিরকে দেখতে পান। এ সময় তার সামনেই মনির হোসেন বিপ্লবকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিপ্লবের চিৎকার শুনে নজির আহম্মদ ও আশপাশের কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে মনিরকে ধরে ফেলেন। পরে গুরুতর আহত বিপ্লবকে উদ্ধার করে প্রথমে মনোয়ারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার দিনই নিহতের বাবা নজির আহম্মদ ডেমরা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তে উঠে আসে, বিপ্লব বশির মনির হোসেনের কাছ থেকে ২০ টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে ওই বিরোধের জেরেই বিপ্লবকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর মনিরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ৩১ মার্চ ডেমরা থানার উপ-পরিদর্শক আ. জব্বার মনিরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরে একই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়।
বিচার চলাকালে আদালত পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
২০০৯ সালে মনির হোসেন জামিনে মুক্তি পান। তবে পরবর্তীতে তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর তার জামিন বাতিল করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার প্রায় ২৫ বছর পর মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।