চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের পৃথক দুই মামলায় জামিন পেয়েছেন সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা চলমান থাকায় এই মুহূর্তে কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন সংক্রান্ত রুল যথাযথ ঘোষণা করে চিন্ময়ের জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য।
২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সূত্রপাত হয় জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার মধ্য দিয়ে।
২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন তৎকালীন চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান। ওই মামলায় ২৫ নভেম্বর ঢাকার কাছ থেকে চিন্ময়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন তাঁকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। এ সময় তাঁকে ঘিরে থাকা অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের মধ্যে আদালত এলাকার কাছেই আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই মামলাতেও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন আদালত।
এ ছাড়া হত্যাচেষ্টা, হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে পুলিশের করা তিনটি মামলাসহ আলিফের ভাইয়ের দায়ের করা আরও একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ফলে দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও অন্য মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের কারামুক্তির সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।