টানা বৃষ্টি আর অনুকূল আবহাওয়ায় লালমনিরহাটে আমন ধানের ক্ষেতগুলোতে এবার আশাব্যঞ্জক চিত্র দেখা যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার জমিতে ধানের গাছ বেড়ে উঠছে বেশ সতেজভাবে। বাড়তি সেচের প্রয়োজন না হওয়ায় উৎপাদন খরচও কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
তবে ভালো ফলনের প্রত্যাশার মধ্যেও সার সরবরাহ ও মানসম্মত কীটনাশক পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তাদের। কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমজুড়ে প্রয়োজনীয় সার ও কার্যকর কীটনাশকের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে নিম্নমানের কীটনাশকের বিক্রি বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলেছেন তারা।
জেলার বিভিন্ন এলাকার আমন খেত ঘুরে দেখা গেছে, ধানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ জমিতে সার দিচ্ছেন। আবার অনেককে পোকামাকড় ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে ধানের জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করতে দেখা গেছে।
আমন চাষি সালাম মিয়া বলেন, নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় এবার জমিতে আলাদা করে সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। এতে উৎপাদন ব্যয় কমেছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়াও ভালো রয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়তে হয়নি। ফলে ধানের গাছও ভালো অবস্থায় রয়েছে।
কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, আমনের এ সময়ে মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকাসহ বিভিন্ন রোগ ও পোকার আক্রমণের আশঙ্কা থাকে। শুরুতেই ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে ফলন কমে যেতে পারে। তাই প্রয়োজনের সময় সার ও কার্যকর কীটনাশক হাতের কাছে পাওয়া জরুরি।
কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় বাজারে মাঝে মধ্যে নিম্নমানের কীটনাশক বিক্রি হয়। সঠিকভাবে শনাক্ত করতে না পেরে এসব পণ্য ব্যবহার করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। এতে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি কৃষকের অতিরিক্ত অর্থও খরচ হয়। এ কারণে কীটনাশকের গুণগত মান নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার খারুয়ার বাজার চর এলাকার কৃষক সুলতান বলেন, আমনে ভালো ফলনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে সার প্রয়োগের পাশাপাশি পোকামাকড় দেখা দিলে কার্যকর কীটনাশক ব্যবহার করা প্রয়োজন। কিন্তু মানসম্মত কীটনাশক না পাওয়া গেলে ফসলের ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক রাসেল মিয়ার প্রত্যাশা, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমনের ফলন ভালো হবে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ধান চাষের জন্য বেশ সহায়ক। এর সঙ্গে বাজারে ভালো মানের কীটনাশক সহজে পাওয়া গেলে ফলন আরও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. মতিউল আলম বলেন, জেলায় বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে।
নিম্নমানের কীটনাশক ঠেকাতেও নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, বিভিন্ন সময় খুচরা বিক্রেতাদের দোকান থেকে কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় কোনো পণ্যের গুণগত মান নিয়ে সমস্যা পাওয়া গেলে সেটি বাজারজাত বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লালমনিরহাটে ৮৬ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। এর বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় আবাদ কিছুটা কম হলেও কৃষকরা এখন পরবর্তী মৌসুমের সবজি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।