উত্তরের জেলা নীলফামারীতে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতেই দেখা দিয়েছে ঘন কুয়াশা। ভোরের বাতাসে শীতের আমেজ আর ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের আভাস।
দীর্ঘদিনের গরমের পর জেলার প্রকৃতিতে ভোর ও রাতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। দিনের বেলায় রোদ, গরম কিংবা বৃষ্টির আবহাওয়া থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যরাত পেরিয়ে ভোরের দিকে ঠান্ডার অনুভূতি বাড়ছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে নীলফামারীর বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশার এমন দৃশ্য দেখা যায়। কুয়াশার কারণে ভোরে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে। তবে সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়লে ধীরে ধীরে কুয়াশাও কেটে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষদিকে নীলফামারীতে রাত ও ভোরে কুয়াশার ঘনত্ব বাড়তে শুরু করে। তবে এবার মাসের মাঝামাঝিতেই ঘন কুয়াশার দেখা মেলায় অনেকের মধ্যেই শীতের আগমন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জেলা সদরের বাসিন্দা আকরাম আলী বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে চারপাশ কুয়াশায় ঢাকা দেখতে পান তিনি। সাধারণত মাসের শেষদিকে কুয়াশা বাড়লেও এবার তুলনামূলক আগেই এর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
শহরের রিকশাচালক আলিম উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন ভোরে রিকশা নিয়ে বের হন। বুধবার সকালে বের হয়ে চারদিকে কুয়াশা দেখতে পান। কুয়াশার কারণে ভোরের পরিবেশও অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।
সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, কয়েক দিন ধরে নীলফামারী অঞ্চলে সকালের তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।
তিনি বলেন, বুধবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সামনে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে আরও কমতে পারে বলেও জানান তিনি।
ফলে ভোরের কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের এই জনপদে এখন থেকেই শীতের আবহের উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে।