মানুষের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় আন্তরিক একটি হাসিই মানুষের মন জয় করার জন্য যথেষ্ট। ইসলামেও হাসিমুখে কথা বলা ও সুন্দর আচরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন এবং সাহাবিদেরও এমন আচরণে উৎসাহিত করেছেন।
সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে হাজম (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে বেশি হাসিমুখের কাউকে দেখেননি।
(তিরমিজি)
অন্য এক বর্ণনায় জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ইসলাম গ্রহণের পর যখনই তিনি মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে দেখা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।
(মুসলিম)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, সম্পদ দিয়ে সবসময় মানুষকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়; বরং হাসিমুখ ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে তাদের সন্তুষ্ট করা যায়।
(মুসনাদে আবু ইয়ালা)
অর্থাৎ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্থের চেয়ে সুন্দর ব্যবহার ও আন্তরিকতার গুরুত্ব অনেক।
আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, কোনো ভালো কাজকে ছোট মনে করা উচিত নয়। এমনকি নিজের ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাও ভালো কাজ।
(মুসলিম)
আরেক হাদিসে তিনি বলেছেন, নিজের ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে হাসাও সদকা।
(তিরমিজি)
তাই সদকা করার জন্য সবসময় অর্থ ব্যয় করতে হবে—এমন নয়। আন্তরিকতা, ভালো ব্যবহার ও হাসিমুখে কথা বলার মধ্য দিয়েও একজন মানুষ নেকি অর্জন করতে পারেন।
পবিত্র কোরআনে হজরত সুলাইমান (আ.)-এর একটি ঘটনার মাধ্যমে হাসির সুন্দর উদাহরণ পাওয়া যায়।
সুলাইমান (আ.) ও তার বাহিনী যখন পিঁপড়ার উপত্যকার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন একটি পিঁপড়া অন্য পিঁপড়াদের নিজেদের ঘরে আশ্রয় নিতে সতর্ক করে। পিঁপড়াটির কথা শুনে সুলাইমান (আ.) মুচকি হাসেন এবং আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের তাওফিক প্রার্থনা করেন।
এই ঘটনা সূরা আন-নামলে বর্ণিত হয়েছে।
ইসলামের শিক্ষা হলো—মানুষের সঙ্গে কোমল, আন্তরিক ও সুন্দর আচরণ করা। তাই প্রতিদিনের জীবনে একটি হাসি হয়তো খুব ছোট বিষয়, কিন্তু সেটিই কারও মন ভালো করার পাশাপাশি সওয়াবের কারণ হতে পারে।