টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ। তাই শিক্ষাকে শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে—এমন মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রবাসী পেশাজীবীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের আয়োজনে ‘ফ্রম ক্লাসরুম টু ইকোনমি’ শীর্ষক এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সঞ্চালনা করেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
আলোচনায় বাংলাদেশের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও কর্মমুখী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদের বাস্তব জীবন ও কর্মক্ষেতরের চাহিদা মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় তৈরির ওপর জোর দেন। পাশাপাশি তরুণদের ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের উপযোগী করে তোলা এবং তাদের উদ্যোক্তা ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
মতবিনিময়ে শিক্ষা থেকে দক্ষতা, দক্ষতা থেকে কর্মসংস্থান এবং কর্মসংস্থান থেকে উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক শক্তি তৈরির একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
আলোচনায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা বলেন, শ্রমবাজারের পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের সামঞ্জস্য বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকার, বেসরকারি খাত ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা জরুরি।
বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।
আন্তর্জাতিক পরিসরে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রবাসী পেশাজীবীদের সঙ্গে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যোগাযোগ আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে সরকার ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান এবং নিউইয়র্কের বাংলাদেশি প্রবাসী পেশাজীবীরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, কর্মমুখী দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে তরুণদের দক্ষ ও কর্মক্ষম জনশক্তিতে রূপান্তর করতে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, নিয়োগদাতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
‘ফ্রম ক্লাসরুম টু ইকোনমি’ শীর্ষক আলোচনায় বাংলাদেশের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নকে কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত করার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করতে এ ধরনের সংলাপ ভবিষ্যতে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে বলে মত দেন তারা।