স্বাধীনতার পর মাত্র একটি উড়োজাহাজ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে এবার বহর সম্প্রসারণে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনটি। এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ ক্রয়াদেশ।
১৯৭২ সালে একটি উড়োজাহাজ দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা বিমানের ইতিহাসে একসময় সর্বোচ্চ ২১টি উড়োজাহাজ ছিল। ২০২৬ সালে করা নতুন দুটি ক্রয়াদেশের মোট সংখ্যা সেই রেকর্ড বহরের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
সর্বশেষ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
নতুন চুক্তির আওতায় পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কিনবে বিমান।
নিউইয়র্কে চুক্তিতে বোয়িংয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন। বিমানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ ১১টি উড়োজাহাজের চুক্তির আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান।
ওই চুক্তির আওতায় রয়েছে—
৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার
২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার
৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স
দুটি চুক্তি মিলিয়ে চলতি বছর বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার অর্ডার দিয়েছে বিমান।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে বোয়িং ৭৮৭, ৭৭৭ এবং ৭৩৭ নেক্সট-জেনারেশন উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। এসব উড়োজাহাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বহরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসাইন বলেন, সর্বশেষ চুক্তিটি বিমানের বহর ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্রয়াদেশটি বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর পরিকল্পনার প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন হিসেবে বাংলাদেশের জনগণ, প্রবাসী, ব্যবসা ও পর্যটনের যোগাযোগের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বিমানের নেটওয়ার্ক ও সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। দেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন বলেন, নতুন ক্রয়াদেশটি বিমানের বহর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতিফলন।
তার মতে, নতুন ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ বিমানের জন্য জ্বালানি সাশ্রয়, বহুমুখিতা ও নির্ভরযোগ্যতার সুবিধা তৈরি করবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ সক্ষমতাকে এগিয়ে নিতে এগুলো ভূমিকা রাখবে।
একটি উড়োজাহাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে চলতি বছরের এই ২৫টি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ তাই প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে থাকছে।