পটুয়াখালীর বাউফলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জেরে স্থানীয় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচার ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ তুলে অপপ্রচার চালানোর ঘটনা ঘটেছে। ?এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী জেলা সিআইডি (ঈওউ)-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ?মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী মো. মাসুম বিল্লাহ জাতীয় দৈনিক ‘গণকণ্ঠ’ পত্রিকার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন এবং স্থানীয়ভাবে ‘ইধঁঢ়যধষ ঘবংি ২৪’ ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ ও ভিডিও প্রচার করে থাকেন। সম্প্রতি বাউফলের শৌলা এলাকায় “জোরপূর্বক গাছ কাটার অভিযোগ” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন তিনি। ওই সংবাদের জের ধরেই স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয়। ?পরবর্তীতে সংবাদটি ‘খবর বাউফল’ ও ‘বাউফল টুডে’ নামের ফেসবুক পেজেও প্রচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত ১০টা ৪৯ মিনিটের দিকে ২ নম্বর আসামি মো. আমিনুল ইসলাম তাঁর মোবাইল নম্বর থেকে সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহর নম্বরে ফোন করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। ?এরপর ৩ নম্বর আসামি মো. ইমরান খানের ফেসবুক আইডি ও বিভিন্ন পেজ থেকে সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য ও হুমকিসহ ভিডিও প্রচার করা হয়। যেখানে ১ নম্বর আসামি তরিকুল ইসলাম ফাহিম “পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি”র মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। ওই মিথ্যা, সাজানো ও মানহানিকর ভিডিও বক্তব্যটি ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়।
?এই ঘটনায় বাদীর পেশাগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ায় তিনি প্রথমে বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৯৭০, তারিখ: ১৯/০৮/২০২৬) করেন। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ও ডিজিটাল আলামত সুরক্ষার মাধ্যমে গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি (সাইবার পিটিশন মামলা নং- ২৬২/২০২৬) দায়ের করা হয়।
?মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন— মো. তরিকুল ইসলাম ফাহিম (২৬), মো. আমিনুল ইসলাম (৩২), মো. ইমরান খান (৩৫) এবং প্রধান প্ররোচণাকারী ও ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে মো. আবুল কালাম হাওলাদার (কালু) (৬৫)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
?বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ, ফেসবুক আইডির প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্তকরণ (ওচ ষড়ম, ষড়মরহ যরংঃড়ৎু ও সবঃধফধঃধ বিশ্লেষণ) এবং অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার জন্য মামলাটি বর্তমানে সিআইডির নিবিড় তদন্তাধীন রয়েছে। সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।