পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধিতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই দুই ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বন্যার পাশাপাশি তীব্র নদীভাঙন ও সাপের আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয়রা। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই দুই ইউনিয়নের ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। চিলমারী ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা উদয়নগর, আতারপাড়া ও ডিগ্রিরচর এলাকায় নদীভাঙনে ইতিমধ্যে অনেক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও যোগাযোগের সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গত দুই-তিন দিনে তাঁর ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টির নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে রামকৃষ্ণপুর ইউপির চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল জানান, তাঁর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের চারপাশ এখন পানিতে থইথই করছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক বাড়ির ভেতরে পানি না ঢুকলেও ভিটা পর্যন্ত ছুঁয়েছে। পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ২ সেন্টিমিটার, যেখানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার।পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে পদ্মায় প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। পানির বৃদ্ধির সঙ্গে তীব্র স্রোতের কারণে পাশের পাবনা-রাজবাড়ী নৌপথে ফেরি চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। সার্বিক বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, প্রশাসন পুরো পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। ইতিমধ্যে প্লাবিত এলাকার ৩০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী বন্যাদুর্গত এলাকায় সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।