বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে বিদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো, সাইবার প্রতারণা, এটিএম ও ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, অবৈধ ভিওআইপি, মাদক ও অস্ত্র পাচার, জাল মুদ্রা তৈরি, সোনা চোরাচালান, মানব পাচারসহ নানা অপরাধে বিদেশি নাগরিকদের নাম উঠে আসছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে তাদের অনেকে গ্রেপ্তার হলেও, কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটন ও ব্যবসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র বাংলাদেশে নিজেদের কার্যক্রমের পরিধি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে সাইবারভিত্তিক অপরাধের ক্ষেত্রে দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অন্তত ছয় দেশের নাগরিকদের নিয়ে গঠিত কিছু ট্রান্সন্যাশনাল সাইবার সিন্ডিকেট পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশের পর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের অভিজাত আবাসিক এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব জায়গা থেকে অনলাইন জুয়া, বিভিন্ন ধরনের স্ক্যাম এবং আর্থিক প্রতারণার কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অপরাধচক্রগুলো বেনামি সিম, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন দুর্বলতা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের কৌশল ব্যবহার করে। প্রতারণার অর্থ প্রথমে স্থানীয় বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে নেওয়া হয়। পরে একাধিক অ্যাকাউন্টে দ্রুত লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের উৎস আড়াল করে সেটিকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরের চেষ্টা করা হয়।
এর ফলে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সার, চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছরে রাজধানী ঢাকা থেকে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে অর্ধশতাধিক চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে চার শতাধিক বিদেশি বন্দি রয়েছেন বলে কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য। তাদের মধ্যে কেউ ব্যবসা, কেউ ভ্রমণ, কেউ শিক্ষার্থী কিংবা খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীন ও কম্বোডিয়ায় অনলাইন জুয়া ও সাইবার স্ক্যামারদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু হওয়ার পর ওইসব চক্রের একটি অংশ বিকল্প অবস্থান খুঁজছে। ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামও একই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।