ধর্মীয় বক্তা ডা. জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি সফরে থাকা আনোয়ার ইব্রাহিম শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সফরের সময় নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার একটি ব্যক্তিগত বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে জাকির নায়েকের বিষয়টি তোলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তবে এ বিষয়ে তিনি মোদিকে ঠিক কী জবাব দিয়েছেন, তা প্রকাশ করেননি আনোয়ার।
জাকির নায়েকের প্রত্যার্পণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দুই নেতার ব্যক্তিগত আলোচনায় বিষয়টি এসেছে। তবে ভারত-মালয়েশিয়া সম্পর্কের স্বার্থে এ ধরনের আলোচনা প্রকাশ্যে না আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আনোয়ারের ভাষ্য, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রত্যার্পণের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানোর আগে মালয়েশিয়াকে দেশটির আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে বলেও জানান আনোয়ার।
তিনি বলেন, জাকির নায়েককে ভারত কেন ফেরত চাইছে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়ার কিছুটা ধারণা রয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সতর্ক থাকতে হবে। আইনের শাসনের পাশাপাশি ভারত-মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
২০১৬ সালে ভারত ছাড়ার পর থেকে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন জাকির নায়েক। বর্তমানে তিনি দেশটির স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে সেখানে রয়েছেন।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিয়েছে।
তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির চেষ্টাও করেছিল ভারত। তবে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না থাকায় ইন্টারপোল সেই অনুরোধ গ্রহণ করেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাকির নায়েক অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।