ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় দেশজুড়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সচেতনতামূলক প্রচারপত্র তৈরি করে ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করা হবে।
এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রেডিও ও টেলিভিশনে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিভিন্ন বার্তা প্রচার করা হবে। স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ ও হাট-বাজারে আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থানে বিন বসানোর বিষয়েও সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
রিজভী জানান, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর আগে শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে যুক্ত ছিলেন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়েও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে বলেও জানান রিজভী।
তিনি বলেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে মশারি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সুরক্ষা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দলীয়ভাবে জনসচেতনতা কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে রিজভী বলেন, দেশের অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় একটি সচেতনতামূলক প্রচারপত্র তৈরি করা হবে। পরে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ওই প্রচারপত্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করবে বিএনপি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গার্লস গাইড, স্কাউট ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচলিত ও ডিজিটাল—দুই মাধ্যমেই প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।
রিজভী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি রেডিও ও টেলিভিশনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই বার্তা মানুষের কাছে বারবার পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দল ও সরকারের নেওয়া ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ড এবং সচেতনতামূলক উদ্যোগগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
রিজভী বলেন, অনেক স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ ও হাট-বাজারে আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নেই। ফলে যেখানে-সেখানে ময়লা জমে পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়।
এ কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বাজার এলাকায় আবর্জনা রাখার জন্য নির্দিষ্ট বিন স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এবং হাট-বাজার পরিচালনা কমিটিগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।
প্রয়োজনে দলীয়ভাবেও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানান বিএনপির এই নেতা।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটিতে তৈরি হওয়া শূন্য পদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
রিজভী জানান, বিভিন্ন কমিটির কেউ মারা গেছেন, কেউ দলীয় কর্মকাণ্ডে নেই আবার কেউ বহিষ্কৃত হয়েছেন। এ কারণে যেসব পদ খালি হয়েছে, সেগুলো পূরণের বিষয়টি বৈঠকে আলোচনায় আসে।
এসব পদে সংশ্লিষ্ট কমিটির পরবর্তী পর্যায়ে থাকা নেতাদের পদোন্নতির মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, তা দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে। গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও বর্তমানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া আসনের নির্বাচন নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান রিজভী।
তিনি জানান, আগামী ২৯ অক্টোবর ওই শূন্য আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন আগ্রহী প্রার্থীরা।
১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটিই এ ক্ষেত্রে মনোনয়ন বোর্ডের দায়িত্ব পালন করবে। ওই সভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
রিজভী জানান, ২৯ অক্টোবরের নির্বাচনের জন্য এটিই বিএনপির দলীয় প্রাথমিক সময়সূচি। বৈঠকের অন্যান্য সিদ্ধান্ত বিস্তারিতভাবে পরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
সাংগঠনিক শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে আলোচনা হলেও দলের কাউন্সিল নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়নি বলে জানান রিজভী।
তার ভাষ্য, বর্তমানে যে শূন্য পদগুলোর কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো মূলত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক কমিটির। বিভিন্ন কারণে এসব পর্যায়ে পদ শূন্য হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সেসব পদ পূরণের বিষয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।