স্ক্র্যাপ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে পুনঃব্যবহারযোগ্য পণ্য আমদানি করলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনার পর এ বিষয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর একটি পরিপত্র জারি করেছে এনবিআর। সংস্থাটির দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস: নীতি) রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে স্ক্র্যাপ আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের পরিপত্রে বলা হয়েছে, আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ এবং এর আগের আদেশগুলোতে শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে স্ক্র্যাপ আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রকৃত ব্যবহারকারী হিসেবে স্বীকৃত শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের আমদানি স্বত্ব অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাসযোগ্য নির্ধারিত এইচএস কোডের আওতায় ওয়েস্ট ও স্ক্র্যাপ আমদানি করতে পারে।
তবে কিছু আমদানিকারক স্ক্র্যাপ ঘোষণা ব্যবহার করে এমন পণ্য দেশে আনছেন, যেগুলো আসলে অন্য এইচএস কোডের অধীন এবং সরাসরি পুনঃব্যবহার করা সম্ভব।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এ ধরনের পণ্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আটক করার পর সেগুলো খালাসের জন্য কিছু আমদানিকারক হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন করেছেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী স্ক্র্যাপ ঘোষণার ক্ষেত্রে নতুন করে নির্দেশনা দিয়েছে এনবিআর।
এনবিআরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে কার্যকর আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী এইচএস হেডিং ৭২.০৪-এর আওতায় শ্রেণিবিন্যাসযোগ্য স্ক্র্যাপ ছাড়া অন্য কোনো পুনঃব্যবহারযোগ্য পণ্য স্ক্র্যাপ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা যাবে না।
অর্থাৎ স্ক্র্যাপের নামে এমন কোনো পণ্য আমদানি করা যাবে না, যা অন্য কোনো এইচএস কোডের আওতায় পড়ে এবং পুনরায় ব্যবহারযোগ্য।
এনবিআর জানিয়েছে, কোনো আমদানিকারক আমদানি নীতির নির্দেশনা অমান্য করে স্ক্র্যাপ ঘোষণার মাধ্যমে পুনঃব্যবহারযোগ্য পণ্য দেশে আনলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত কাস্টমস আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফলে স্ক্র্যাপ আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যের প্রকৃত ধরন ও সঠিক এইচএস কোড অনুসরণ করার বিষয়ে আমদানিকারকদের আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।