জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতায় বসাতে পারে, আবার প্রয়োজন হলে টেনেহিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামিয়েও দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সরকারকে এর জন্য ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত ‘এ-প্লাস সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, কুমিল্লায় নিহত অপ্রতিমের বাবা-মা সন্তান হারানোর শোক নিয়ে আহাজারি করছেন। সন্তানকে হারিয়ে কীভাবে তারা বেঁচে থাকবেন, সেটিই এখন তাদের সামনে বড় প্রশ্ন। তার দাবি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থামছে না। জনগণ বিভিন্ন পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ট্যাক্স দিচ্ছে। এরপরও সরকার কেন নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে পারবে না—এ প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে।
সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নুরুল ইসলাম বলেন, সরকারের দেশ পরিচালনার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, দেশের মানুষ যেন নিজেদের রাষ্ট্রেই পরবাসী। গত সাত মাসে দেশে অন্তত ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ শিশুদের একটি বড় অংশকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো দুই হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ রয়েছে। সরকারি হিসাবের বাইরেও প্রতিদিন শিশু নিখোঁজ হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং জনগণের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণে অগ্রগতি নেই। গণভোটের মাধ্যমে যেসব মৌলিক পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে, সেগুলোও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নুরুল ইসলাম আরও বলেন, সরকার মুখে সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে কালক্ষেপণ করছে এবং বিভিন্ন দপ্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে রাখছে। তরুণ সমাজ এসব বিষয় বুঝতে পারে না—এমনটা ভাবার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষায়, জনগণ সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হলে পরিস্থিতি কতটা বদলে যেতে পারে, তা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেই দেখা গেছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আত্মগঠন ও মেধার বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি বলেন, একজন মানুষ যতক্ষণ সমাজে ভালো কাজ ও ইতিবাচক অবদান রাখবে, ততক্ষণ পরিবার ও সমাজ তার প্রশংসা করবে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্যতা ও মেধার বিকাশ ঘটিয়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও বিশেষ উপহার দেওয়া হয়।
ছাত্রশিবিরের শহীদ আবিদ বিন ইসলামের বাবা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। মূল বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী।
ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর আমির নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক শামিম হোসেন, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সম্পাদক এইচ এম আবু মুসা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং চিকিৎসক ডা. ফজলুল হক।