দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রমে তরুণদের অংশগ্রহণকে শুধু আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে না রেখে নীতিনির্ধারণে তাদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক ও তরুণ প্রতিনিধিরা।
তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পর রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা ও ভাবনাকে জনপরিসরে তুলে ধরতে এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশে সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ (জয়ি)’ প্রকল্পের আওতায় ভয়েস ও দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগ যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের সম্পৃক্ততা, নীতিনির্ধারণে তাদের মতামতের প্রতিফলন এবং এসব ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও তরুণ প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, তরুণদের দাবি, উদ্বেগ ও প্রস্তাব কেবল সভা-সেমিনারে আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। এসব বিষয়কে বৃহত্তর জনপরিসরের আলোচনায় নিয়ে আসতে হবে। তরুণ, নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তবে তরুণদের বিষয়গুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা, যাচাই ও বস্তুনিষ্ঠতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। তাদের মতে, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে তরুণদের বক্তব্য আরও কার্যকরভাবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বলেন, কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বাধীন ও প্রাণবন্ত গণমাধ্যমের প্রয়োজন রয়েছে। সংস্কার নিয়ে তরুণদের আলোচনা ও দাবি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক পক্ষগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
ঢাকা পোস্টের সম্পাদক কামরুল মো. কামরুল ইসলাম বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বাস্তব অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তরুণদের ভাবনা ও প্রত্যাশা জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি তা নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াও গণমাধ্যমের অন্যতম দায়িত্ব।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট সোহরাব হাসান বলেন, তরুণদের সঙ্গে গণমাধ্যমের যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানো গেলে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা আরও কার্যকরভাবে জনআলোচনায় উঠে আসবে।
প্রথম আলোর ইংরেজি বিভাগের প্রধান আয়েশা কবির বলেন, তরুণদের কণ্ঠস্বর বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরতে তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।
ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণকে প্রতীকী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের বাস্তব প্রভাব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা জরুরি।
আলোচনায় তরুণদের উদ্যমের সঙ্গে অভিজ্ঞ প্রজন্মের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারী ও আদিবাসী সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সংস্কার কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে চ্যানেল ২৪-এর হেড অব ডিজিটাল রাজিব খান, ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।