ত্বকে কোনো র্যাশ, দাগ বা ফুসকুড়ি নেই, অথচ সারা শরীরে দীর্ঘদিন ধরে চুলকানি হচ্ছে—বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী চুলকানি সবসময় ত্বকের সমস্যার কারণে হয় না; লিভার, কিডনি, থাইরয়েড, রক্তস্বল্পতা কিংবা ডায়াবেটিসের মতো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
অনেকের ত্বক স্বাভাবিকভাবেই শুষ্ক থাকে এবং মাঝেমধ্যে চুলকানিও হতে পারে। কিন্তু ত্বক আচমকা অতিরিক্ত শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যাওয়া, কালচে দাগ পড়া কিংবা সামান্য কেটে গেলে ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সাধারণত ত্বকে লালচে দাগ, ফুসকুড়ি, শুষ্কতা বা খসখসে ভাব থাকলে চুলকানির কারণ ত্বকের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কিন্তু ত্বক দেখতে স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন চুলকানি চলতে থাকলে এর পেছনে শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যাও থাকতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী চুলকানি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার উপসর্গ হতে পারে। যেমন—
লিভারের সমস্যা: বিশেষ করে হাতের তালু ও পায়ের তলায় চুলকানি বেশি হতে পারে।
কিডনির সমস্যা: অনেক ক্ষেত্রে রাতে সারা শরীরে চুলকানি বাড়তে পারে।
থাইরয়েডের সমস্যা: থাইরয়েডের কার্যকারিতার অস্বাভাবিকতার সঙ্গেও চুলকানির সম্পর্ক থাকতে পারে।
রক্তস্বল্পতা বা আয়রনের ঘাটতি: কিছু ক্ষেত্রে শরীরে আয়রনের ঘাটতির সঙ্গে চুলকানি দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়ে ত্বক শুষ্ক হতে পারে, যার ফলে চুলকানি দেখা দিতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বক শুষ্ক হয়ে চুলকানি হওয়া স্বাভাবিকও হতে পারে। তবে নতুন করে শুরু হওয়া, দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রমেই বাড়তে থাকা চুলকানিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে ফেলে রাখা উচিত নয়।
নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে দীর্ঘদিন অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
টানা ছয় সপ্তাহের বেশি চুলকানি থাকলে।
চুলকানির সঙ্গে চোখ বা ত্বক হলদেটে হয়ে গেলে।
কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকলে।
চুলকানির সঙ্গে রাতে ঘাম বা জ্বর হলে।
গলা বা শরীরের অন্য কোথাও গ্রন্থি ফুলে উঠলে।
দীর্ঘদিন ধরে র্যাশ ছাড়াই চুলকানি থাকলে চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে কয়েকটি পরীক্ষা দিতে পারেন। এর মধ্যে সাধারণভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে—
লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT)
কিডনি ফাংশন টেস্ট (RFT)
থাইরয়েড পরীক্ষা
কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)
এসব পরীক্ষার মাধ্যমে লিভার, কিডনি, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা রক্তস্বল্পতার মতো কিছু সম্ভাব্য কারণ শনাক্ত করার সুযোগ থাকে। তবে চুলকানির কারণ নির্ধারণে সবার একই পরীক্ষা প্রয়োজন হবে—এমন নয়; চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা নির্বাচন করবেন।
ত্বকে কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ না থাকলেও দীর্ঘদিন চুলকানি চলতে থাকলে শুধু ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করে বিষয়টি চাপা না দিয়ে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। কারণ সমস্যাটি কখনো কখনো ত্বকের বাইরে শরীরের অন্য কোনো অঙ্গ বা শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।