দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে দিনাজপুরে উদ্ধার হওয়া সাতটি প্রাচীন কষ্টিপাথরের মূর্তি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বুধবার রাতে দিনাজপুর ৪২ বিজিবির উদ্যোগে এসব প্রত্নসম্পদ কাহারোল উপজেলার ঐতিহাসিক কান্তনগর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান মো. শিহাব হোসেনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়।
৪২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সীমান্ত এলাকায় প্রত্নসম্পদ পাচারসহ বিভিন্ন ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচুন্ডি মালিপাড়া ও কাহারোল উপজেলার ইছাইল এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনটি প্রাচীন কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণের জন্য সেগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়।
এ ছাড়া জেলার বিরল ও খানসামা উপজেলা থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার হওয়া আরও চারটি কষ্টিপাথরের মূর্তি এতদিন বিজিবির হেফাজতে ছিল। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই তিনটি এবং আগের চারটিসহ মোট সাতটি প্রত্নসম্পদ কান্তনগর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে তিনটি প্রাচীন কষ্টিপাথরের মূর্তি হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে দুটি মূর্তির ওজন ৩০ কেজি ৬০০ গ্রাম এবং অপরটির ওজন ৪৫ কেজি ৩৭০ গ্রাম। এছাড়া ১১ মে আরও একটি ৯ কেজি ৫৪০ গ্রাম ওজনের কষ্টিপাথরের মূর্তি কান্তনগর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে দেওয়া হয়।
লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, প্রত্নসম্পদ একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব নিদর্শনের অবৈধ পাচার ও ধ্বংস ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া প্রত্নসম্পদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে সেগুলোর সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রত্নসম্পদ পাচারের পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র, মানবপাচার ও অন্যান্য চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।