১৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এলেন, দেখলেন, নির্দেশ দিলেন। দুই দিন পর জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমানও ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলেন। দেখলেন, পর্যবেক্ষণ করলেন, নানা নির্দেশনা দিলেন, আশ্বাসও দিলেন।
কিন্তু এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এরপর কী?
নারায়ণগঞ্জের মানুষ এই প্রশ্নের উত্তর আগেও বহুবার পেয়েছেন। কোনো মন্ত্রী, সচিব কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হাসপাতালে পরিদর্শনে এলে হঠাৎ করেই তৎপরতা বেড়ে যায়। শুরু হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা। কিন্তু পরিদর্শনের পর কয়েক দিন যেতে না যেতেই সেই তৎপরতা স্তিমিত হয়ে পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে ফিরে আসে পুরোনো চিত্র।
নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান আশ্রয় ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে এই হাসপাতাল অনেক সময় শেষ ভরসা। অথচ বছরের পর বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে রয়েছে অপরিচ্ছন্নতা, পানির সংকট, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের অনুপস্থিতি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং সেবার মান নিয়ে নানা অভিযোগ।
১৪ জুন দেশের বিভিন্ন জেলায় আইসিইউ সেবা সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
জেলার মানুষের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় জটিল রোগীদের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু নতুন সেবা উদ্বোধনের পাশাপাশি হাসপাতালের পুরোনো বাস্তবতাও মন্ত্রীর চোখ এড়ায়নি।
হাসপাতালের রান্নাঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নোংরা শৌচাগার, কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের নির্দেশও দেন।
এর মাত্র দুই দিন পর জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সিভিল সার্জন হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। তারা ওয়ার্ড, করিডর, রান্নাঘর ও শৌচাগার ঘুরে দেখেন। কথা বলেন রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পানির সংকট, দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে নানা উদ্যোগের কথাও জানান।
সবই ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই পরিবর্তন কত দিন থাকবে?
অভিজ্ঞতা খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। শুধু ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল নয়, খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতাল, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ জেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও একই ধরনের চিত্র বহুবার দেখা গেছে।
পরিদর্শনের আগে তৎপরতা, পরিদর্শনের সময় দৃশ্যমান পরিবর্তন, আর কয়েক দিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া—এ যেন পরিচিত এক চক্র।
কিন্তু স্বাস্থ্যসেবার মান কোনো বিশেষ দিনের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করতে পারে না। একজন সাধারণ রোগী বছরের প্রতিটি দিন হাসপাতালে কী ধরনের সেবা পাচ্ছেন, সেটিই হওয়া উচিত সেবার মান নির্ধারণের মূল মাপকাঠি।
একজন রোগী হাসপাতালে গেলে তিনি বিশেষ কোনো সুবিধা চান না। তিনি চান প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ওষুধের প্রাপ্যতা, পর্যাপ্ত