শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ধর্মীয় ভেদাভেদ নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশী : পরিবেশমন্ত্রী আগামী গ্রীষ্মের আগেই তিন-চার হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু হাসপাতালে ভর্তি ১৩৭৩ দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে আগে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে : আইনমন্ত্রী জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে : রাষ্ট্রপতি জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম: রাষ্ট্রপতি স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি-ঢাকা এর সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ সফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি ইঞ্জি. মোঃ কামরুজ্জামান মনোনীত দাউদপুর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আয়োজনে মরহুমা জেবুন্নেছা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

ফল থেকে কাণ্ড—নারিকেল কেন ‘জীবনের গাছ’

ইমরোজ শাহেদ
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০১ বার পড়া হয়েছে

একটি গাছ থেকেই পাওয়া যায় খাবার, পানীয়, তেল, দড়ি, জ্বালানি, ঘরের উপকরণ এমনকি নির্মাণসামগ্রী—এমন উদাহরণ পৃথিবীতে খুব বেশি নেই। নারিকেল গাছ সেই বিরল উদাহরণগুলোর একটি। ফল থেকে পাতা, ছোবড়া থেকে খোল, এমনকি পুরোনো গাছের কাণ্ডও মানুষের নানা প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়।

উষ্ণ ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় নারিকেলের এই বহুমুখী ভূমিকার কারণেই এটি দীর্ঘদিন ধরে ‘ট্রি অব লাইফ’ বা ‘জীবনের গাছ’ নামে পরিচিত। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাও (এফএও) নারিকেলের বহুমুখী ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই পরিচয়টি উল্লেখ করেছে।

শুধু ফল নয়, এক গাছেই বহু প্রয়োজন

নারিকেলকে শুধু একটি ফল হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত গুরুত্বের বড় একটি অংশই অজানা থেকে যায়। কাঁচা নারিকেলের পানি পানীয় হিসেবে জনপ্রিয়। এর নরম শাঁসও খাওয়া হয়। আবার নারিকেল পরিণত হলে শাঁস থেকে তৈরি করা যায় নারিকেল দুধ ও তেল।

শুকনো নারিকেলের শাঁস থেকে তৈরি হয় কপরা, যা নারিকেল তেল উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। এই তেল রান্নার পাশাপাশি সাবানসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্য তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। নারিকেলের শুকনো খোল ও অন্যান্য অংশও জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগানো যায়।

অর্থাৎ একটি নারিকেলই একদিকে খাবার ও পানীয়, অন্যদিকে শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

ছোবড়াও ফেলনা নয়

নারিকেলের বাইরের শক্ত আবরণের নিচে থাকা ছোবড়া সাধারণত বর্জ্য মনে হলেও এর রয়েছে যথেষ্ট অর্থনৈতিক মূল্য। ছোবড়া থেকে পাওয়া নারিকেলের আঁশ বা কয়ার দিয়ে দড়ি, মাদুর, ব্রাশ, ঝুড়ি, ব্যাগসহ নানা ধরনের পণ্য তৈরি করা হয়।

ছোবড়ার গুঁড়াও কৃষি ও বাগানচর্চায় ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে নারিকেলের যে অংশটি অনেক সময় ফেলে দেওয়া হয়, সেটিও অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হতে পারে।

খোলেও আছে শিল্পের সম্ভাবনা

নারিকেলের শক্ত খোলও অপ্রয়োজনীয় নয়। এটি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি কয়লা তৈরিতেও কাজে লাগে। বিশেষ প্রক্রিয়ায় নারিকেলের খোল থেকে অ্যাক্টিভেটেড কার্বন তৈরি করা যায়, যা বিভিন্ন ধরনের ফিল্টার ও শোষক উপাদান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

ফলে নারিকেল খাওয়ার পর পড়ে থাকা খোলটিও জ্বালানি ও শিল্পক্ষেত্রে নতুন করে মূল্য পায়।

পাতা দিয়ে ঘর, ঝুড়ি ও কারুশিল্প

নারিকেল গাছের লম্বা পাতারও রয়েছে দীর্ঘদিনের ব্যবহার। ঐতিহ্যবাহী অনেক সমাজে এই পাতা দিয়ে ঘরের ছাউনি, ঝুড়ি এবং বিভিন্ন ধরনের বোনা সামগ্রী তৈরি করা হয়।

বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পে নারিকেল পাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সামোয়ার মতো অঞ্চলে গাছটির প্রায় প্রতিটি অংশই মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত।

পুরোনো কাণ্ডও হয়ে ওঠে কাঠ

নারিকেল গাছের ব্যবহার ফল, পাতা, ছোবড়া কিংবা খোলেই শেষ হয়ে যায় না। উৎপাদনক্ষমতা হারানো বা পুরোনো গাছের কাণ্ড থেকেও কাঠ পাওয়া যায়।

এই কাঠ দিয়ে ঘরবাড়ির বিভিন্ন অংশ, আসবাব, নৌকা এবং অন্যান্য কাঠের সামগ্রী তৈরি করা সম্ভব। এফএওর তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভিন্ন দ্বীপে নারিকেল গাছের কাঠ ঐতিহাসিকভাবে নৌকা নির্মাণ ও বিভিন্ন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

অর্থাৎ একটি নারিকেল গাছ ফল দেওয়া বন্ধ করার পরও মানুষের কাজে লাগতে পারে।

জীবিকার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে নারিকেল

নারিকেলকে ‘ট্রি অব লাইফ’ বলার অন্যতম বড় কারণ এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব। বিশ্বের উষ্ণ অঞ্চলের বহু ক্ষুদ্র কৃষক ও পরিবার নারিকেল চাষের ওপর নির্ভরশীল।

নারিকেল থেকে তেল, আঁশ, খাবার, পানীয় ও বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নারিকেল একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল হিসেবে বিবেচিত এবং এর উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।

তাই ‘জীবনের গাছ’ নামটি এত অর্থবহ

নারিকেল গাছের বিশেষত্ব শুধু এটি অনেক কিছু দেয়—এতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, গাছটির প্রায় প্রতিটি অংশেরই ব্যবহার রয়েছে।

ফল দেয় খাবার ও পানীয়, শাঁস থেকে পাওয়া যায় তেল, ছোবড়া থেকে তৈরি হয় আঁশ, খোল ব্যবহৃত হয় জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে, পাতা দিয়ে তৈরি হয় ঘর ও কারুশিল্পের উপকরণ, আর কাণ্ডও পরিণত হয় নির্মাণসামগ্রীতে।

এই বহুমুখী ব্যবহার, মানুষের জীবিকা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘদিনের অবদানই নারিকেলকে ‘ট্রি অব লাইফ’, ‘ট্রি অব অ্যাবুডেন্স’ বা ‘জীবনের গাছ’ নামে পরিচিত করেছে।

দূর থেকে নারিকেল গাছকে হয়তো অন্য অনেক গাছের মতোই সাধারণ মনে হয়। কিন্তু একটু গভীরে তাকালেই বোঝা যায়, এটি যেন একটি ছোট্ট অর্থনৈতিক ব্যবস্থা—যেখানে গাছের প্রায় কোনো অংশই অকারণে নষ্ট হওয়ার কথা নয়। এ কারণেই উষ্ণ ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে নারিকেল শুধু একটি ফলের গাছ নয়; এটি বহু প্রজন্মের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক নির্ভরতার নাম।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
  • ১৫:৫১ অপরাহ্ণ
  • ১৭:৩২ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৪৬ অপরাহ্ণ
  • ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ
©2026 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102