সকালের ব্যস্ততায় হঠাৎ মাথা দপদপ করতে শুরু করল। কাজের চাপ, নানা চিন্তা কিংবা মানসিক অস্থিরতার সঙ্গে যদি এমনটা প্রায়ই ঘটে, তাহলে বিষয়টি কাকতালীয় নাও হতে পারে। মানসিক চাপ মাথাব্যথার অন্যতম পরিচিত কারণ। বিশেষ করে টেনশন-টাইপ মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে মানসিক চাপ আগে থেকে থাকা মাথাব্যথাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
তাই মাথাব্যথা কমানোর পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি সহজ অভ্যাস এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
মানসিক চাপ কমাতে সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি হলো এমন কিছু করা, যা আপনাকে আনন্দ দেয়। গান শোনা, বই পড়া, নাচ, খেলাধুলা কিংবা পোষা প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানো—যেকোনো পছন্দের কাজ হতে পারে এর অংশ।
প্রতিদিন আলাদা করে মাত্র ১০ মিনিট সময় বের করেও শুরু করতে পারেন। এই ছোট বিরতিটুকুও মনকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
এক দিনে যত বেশি কাজ সম্ভব শেষ করার চেষ্টা অনেক সময় উল্টো মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রতিদিনের কাজের তালিকা তৈরির সময় নিজেকে প্রশ্ন করুন—কোন কাজটি এখনই করা জরুরি, কোনটি পরে করা যাবে এবং কোন কাজটি আদৌ আপনাকে করতে হবে না।
সব দায়িত্ব একসঙ্গে নিজের কাঁধে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
নিয়মিত ব্যায়াম মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি মাথাব্যথা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। হাঁটা, হালকা শরীরচর্চা বা পছন্দের কোনো ব্যায়াম দৈনন্দিন রুটিনে যোগ করা যেতে পারে।
তবে হঠাৎ করে খুব জোরে ব্যায়াম শুরু করা ঠিক নয়। ধীরে ধীরে শরীরকে প্রস্তুত করে তারপর ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানো ভালো। আকস্মিক তীব্র ব্যায়াম কারও কারও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
শরীর ভালো রাখতে যেমন পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন, তেমনি মানসিক চাপ সামলাতেও সুষম খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাবারে ফল, শাকসবজি ও পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার রাখার চেষ্টা করুন।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা অনিয়মিত খাবারের অভ্যাসও এড়িয়ে চলা ভালো।
মানসিক চাপের কারণে অনেকের ঘুমের সমস্যা হয়। আবার পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চাপ সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ঘুমের ঘাটতি শরীরে চাপ বাড়াতে পারে এবং স্ট্রেস-সংশ্লিষ্ট হরমোনের নিঃসরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই নিয়মিত ঘুমের সময় ঠিক রাখা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
মনের ভেতর সব চাপ একা ধরে রাখার প্রয়োজন নেই। পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে নিজের সমস্যার কথা বলা অনেক সময় মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা নিজে সামলাতে কঠিন মনে হলে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে।
কাজের চাপ কমানোর জন্য সময় ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের করণীয় তালিকা হালনাগাদ করুন এবং কাজগুলো অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সাজান।
সম্ভব হলে কিছু দায়িত্ব অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিন। বড় কোনো কাজকে কয়েকটি ছোট ধাপে ভাগ করে একবারে একটি কাজ শেষ করার চেষ্টা করুন। এতে একসঙ্গে অনেক কাজের চাপ কিছুটা কমবে।