জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যৌথ উদ্যোগ এবং সহযোগিতার কাঠামো তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আঙ্কারায় তুরস্কের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী আলপারস্লান বাইরাকতার ও তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হকের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের পক্ষ থেকে তুরস্কের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন রাষ্ট্রদূত আমানুল হক। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বাইরাকতার চলতি বছরের শেষ নাগাদ সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
দুই দেশের জ্বালানি খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনাও দেন তুরস্কের মন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং তুরস্কের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতার কাঠামো নির্ধারণে প্রস্তাবিত এমওইউয়ের একটি খসড়া হস্তান্তর করা হয়।
আলোচনায় সৌর জ্বালানি, খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান ও উন্নয়ন, এলএনজি পরিবহন এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বাংলাদেশের অফশোর ও দ্বীপাঞ্চলীয় স্থাপনা থেকে মূল ভূখণ্ডে পাইপলাইন সংযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও বৈঠকে আলোচিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আঙ্কারায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন শাহানুর আলম ও কমার্সিয়াল কাউন্সেলর আকরাম হোসাইন। তুরস্কের পক্ষে আন্তর্জাতিক বিষয় ও সহযোগিতা বিভাগের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং মন্ত্রীর উপদেষ্টা হামিত কান বাস উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বৈঠকটি দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে পারস্পরিক স্বার্থে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরির আগ্রহের প্রতিফলন।