আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম। হিজরি ১৪৪৮ সনের রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি স্মরণ করা হচ্ছে।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশে রবিউস সানি মাস শুরু হওয়ায় এবার ২৩ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালিত হচ্ছে।
‘ইয়াজদাহম’ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। আর ‘ফাতেহা’ বলতে সাধারণত সুরা ফাতিহা পাঠ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া এবং ইসালে সওয়াবের আয়োজনকে বোঝানো হয়। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সমাজে রবিউস সানির ১১ তারিখটি প্রখ্যাত সুফিসাধক বড়পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর স্মরণে ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ নামে পরিচিত।
দিনটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, খানকা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ, দোয়া এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
এসব অনুষ্ঠানে আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর জীবন ও কর্মের পাশাপাশি তাঁর দ্বীনি শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে প্রয়াত আলেম-ওলামা ও বুজুর্গদের জন্য দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করা হয়ে থাকে।
বড়পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) ইসলামের ইতিহাসে সুপরিচিত আলেম ও সুফিসাধক হিসেবে পরিচিত। ইরানের জিলান অঞ্চলে জন্মগ্রহণের পর তিনি জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে বাগদাদে যান। পরবর্তী সময়ে সেখানেই দ্বীনি জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষাদানে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
তাঁর সঙ্গে কাদেরিয়া তরিকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর শিক্ষা, আধ্যাত্মিক সাধনা ও নৈতিক দর্শনের প্রভাব বিস্তার করেছে।
তাঁর নামে প্রচলিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘আল-গুনিয়াতু লিতালিবি তারিকিল হক’, ‘ফাতহুল গায়ব’ এবং ‘আল-ফাতহুর রব্বানি’। এসব রচনায় তাওহিদ, ইবাদত, আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া, নৈতিকতা ও শরিয়তের বিধান পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) ৫৬১ হিজরির ১১ রবিউস সানিতে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। তাঁর ইন্তেকালের দিনকে স্মরণ করেই রবিউস সানির ১১ তারিখ ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
এ উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রতিবছর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ শরিফ, দোয়া, মিলাদ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে তাঁর দ্বীনি ও আধ্যাত্মিক অবদান স্মরণ করার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ এবং প্রয়াতদের মাগফিরাত কামনা করা হয়।