রাজধানীর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত নতুন মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। ‘এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট)’ নামে ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকল্পটি চলতি সপ্তাহের একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে বর্তমান সরকারের আমলে নতুন মেট্রোরেল নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মোকছেদ আলী জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের একনেক সভায় প্রকল্পটি তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ থাকবে পাতালপথে। এরপর আফতাবনগর সেন্টার থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে উড়ালপথে।
পুরো রুটে থাকবে ১৫টি স্টেশন। এর মধ্যে ১১টি হবে পাতাল এবং চারটি উড়াল স্টেশন। স্টেশনগুলো হবে গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, রাসেল স্কয়ার, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব, নাসিরাবাদ ও দাশেরকান্দিতে।
নতুন এই রেলপথ চালু হলে রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চলের গাবতলী থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে দ্রুত ও সরাসরি গণপরিবহন যোগাযোগ তৈরি হবে।
প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়নের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ঋণ পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চললেও অর্থায়নের অপেক্ষায় প্রস্তুতিমূলক কাজ থামিয়ে রাখতে চায় না ডিএমটিসিএল।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভূমি অধিগ্রহণে প্রায় এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে। এই সময়ের মধ্যেই দরপত্রসহ অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে মূল নির্মাণকাজ।
প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব জানান, ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় সরকার বহন করবে। ফলে বৈদেশিক ঋণ পেতে কিছুটা সময় লাগলেও প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। শুধু টানেল নির্মাণেই প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে শুরুতেই এ কাজ হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে প্রকল্পের কয়েকটি প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। সিপি-১ থেকে সিপি-৪-এর চূড়ান্ত দরপত্রের নথি প্রস্তুত হয়েছে এবং এডিবির সম্মতিও মিলেছে। পাশাপাশি সিপি-৬ ও সিপি-৭-এর নথি পর্যালোচনা চলছে। সিপি-৮ ও সিপি-৯-এর দরপত্র নথিও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।