চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএমইএসি) অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ (সিআইএমসি)। বিশ্ব ফেডারেশন অব মেডিকেল এডুকেশন (ডব্লিউএফএমই) স্বীকৃত এ কাউন্সিলের অ্যাক্রেডিটেশন পাওয়ার পর স্বাস্থ্যসেবা আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এর অংশ হিসেবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ১ হাজার শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ জানান, ২০২২ সালে জাতীয় সংসদে অ্যাক্রেডিটেশন আইন পাসের মাধ্যমে বিএমইএসি গঠিত হয়। বাংলাদেশের মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২৪টি সরকারি, বেসরকারি ও আর্মি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ২১টি প্রতিষ্ঠান বিএমইএসি স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেছে। এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ ও নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজ বিভিন্ন ধাপে মূল্যায়নের পর স্বীকৃতি পেয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজও স্বীকৃতির তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এতে দেশে বিএমইএসি স্বীকৃত মেডিকেল কলেজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটটিতে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান—চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ।
সিআইএমসির অধ্যক্ষ বলেন, বর্তমানে কলেজের সঙ্গে ৫০০ শয্যার চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। হাসপাতালটির ২১টি বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন।
অন্তর্বিভাগের শয্যাগুলোও প্রায় সময় পূর্ণ থাকে। ফলে জায়গার সংকটে অনেক রোগীকে ফিরিয়ে দিতে হয়। হাসপাতালটিতে মোট রোগীর ১০ শতাংশকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ শয্যার তুলনায় বেশি হওয়ায় অনেক সময় মেঝে ও সিঁড়িতেও চিকিৎসা নিতে হয় রোগীদের। এই অতিরিক্ত চাপ কমাতে আরও বড় পরিসরে হাসপাতাল প্রয়োজন। এ কারণেই ১ হাজার শয্যার নতুন হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হওয়ায় দাতা সংস্থা, সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠার ১৩ বছরে সিআইএমসির উদ্যোগে চারটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব আয়োজনে বাংলাদেশ ছাড়াও প্রায় ১৫টি দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন।
এ ছাড়া মালয়েশিয়া, তুরস্ক, চীন ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সিআইএমসির সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে বলে জানানো হয়।
একই ক্যাম্পাসে গত ২২ বছর ধরে বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ৬৫ ইউনিটের ডেন্টাল হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ জন রোগী দন্ত চিকিৎসা নেন।
পাশাপাশি গত আট বছর ধরে নার্সিং কলেজের কার্যক্রমও পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটির সভাপতি এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম মোহসেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিআইএমসির এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান ও গভর্নিং বডির সভাপতি ডা. এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও বিএএন্ডডিসির সদস্য ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ কমিটির সচিব অধ্যাপক মো. নুরুন্নবী, সাবেক অধ্যক্ষ ও অ্যাকাডেমিক অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ডা. মো. টিপু সুলতান এবং উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসলিনা আক্তার।
অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি নয়; এর মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে। এ উদ্যোগ এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।