দীর্ঘ ৪১ বছর ৮ মাসের কর্মজীবনের ইতি টানলেন বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল মোহাম্মদ শের আলী। তবে তার বিদায়টা ছিল অন্য সবার চেয়ে আলাদা। প্রিয় সহকর্মীকে শেষ কর্মদিবসে স্মরণীয় সম্মান জানাতে ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে বসিয়ে নিজেরাই গাড়িটি টেনে থানার মূল ফটক পর্যন্ত পৌঁছে দেন সহকর্মীরা।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানায় তৈরি হয় এমন আবেগঘন দৃশ্য। সহকর্মীদের ভালোবাসা ও সম্মানে বিদায় নেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই প্রবীণ পুলিশ সদস্য।
জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে কনস্টেবল পদে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন মোহাম্মদ শের আলী। দীর্ঘ কর্মজীবনে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ঢাকা মহানগর পুলিশ, কক্সবাজার ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনের পর কর্মজীবনের শেষ এক বছর কাটান আনোয়ারা থানায়।
বিদায়ের দিন থানা প্রাঙ্গণে তাকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সহকর্মীরা। পরে ফুলে সাজানো একটি গাড়িতে তাকে বসানো হয়। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে সহকর্মীরাই গাড়িটি টেনে থানার প্রধান ফটক পর্যন্ত নিয়ে যান। এ সময় উপস্থিত সবার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বিদায়ী মুহূর্তে শের আলী বলেন, দীর্ঘ চাকরিজীবনে অনেক সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করেছেন এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। সুস্থ শরীরে সম্মানের সঙ্গে কর্মজীবন শেষ করতে পারায় তিনি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আনোয়ারা থানার সহকর্মীদের দেওয়া ভালোবাসা আজীবন মনে রাখবেন বলেও জানান তিনি।
সহকর্মীরা বলেন, পুলিশ সদস্যদের কর্মজীবন নানা চাপ, চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতায় ভরা। এত দীর্ঘ সময় নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সম্মানের সঙ্গে অবসরে যাওয়া সত্যিই গর্বের বিষয়।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, শের আলী দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে এমন আয়োজন করতে পেরে থানার সদস্যরাও আনন্দিত।
সবশেষে সহকর্মীদের ভালোবাসায় সাজানো গাড়িতে চড়ে নিজের বাড়ি কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন মোহাম্মদ শের আলী। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবন শেষে সঙ্গে নিয়ে যান সহকর্মীদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর এক স্মরণীয় বিদায়ের স্মৃতি।