বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আরও উপযোগী করে তুলতে ম্যান্ডারিন ভাষা প্রশিক্ষণে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। এ জন্য চীনা বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে এসে দক্ষতা উন্নয়ন ও ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানোর প্রশিক্ষণ দেবেন। এ সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, দেশের দক্ষ কর্মীদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানোর বিষয়ে চীনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। চীন ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সহায়তা দিতে প্রস্তুত। দেশটির বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে এসে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
বৈঠকে মোংলা বন্দর উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে চীন দ্রুত কাজ শুরু করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা আরও কার্যকর করার বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দেশটির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক এবং চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল উদ্বোধনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন বিষয় বৈঠকে গুরুত্ব পায়। মীর শাহে আলম বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের সময়ে চীনের কাছ থেকে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা যতটা সম্ভব বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চল, দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
চীনের একটি রাজনৈতিক প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর এবং বিএনপির একটি প্রতিনিধিদলের চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার আগ্রহের কথাও বৈঠকে জানানো হয়েছে।