সিঙ্গাপুর থেকে ভুটানে ফেরার পথে ঢাকায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেছেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক। এ সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার ভোরে ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান।
প্রায় এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ ও ভুটানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সাক্ষাৎকালে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতিও বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা এবং রাজপরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান।
আলোচনায় দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে আসে। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ হিসেবে ভুটানের ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।
শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ভুটান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। এ সময় ভুটানের রাজা তার ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং এই উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, পারস্পরিক উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও টেকসই অগ্রগতির লক্ষ্যে ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।
সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎ শেষে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি ঢাকা ছেড়ে ভুটানের উদ্দেশে যাত্রা করে।