বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ বিরোধী শক্তিগুলো একসঙ্গে কাজ করছে। সংসদের ভেতরে-বাইরে এবং সর্বশেষ নির্বাচনে তারা যৌথভাবে ভূমিকা রেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
এ সময় তাকে স্বাগত জানান এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডা. মাহমুদা মিতু এমপিসহ দলের অন্যান্য নেতারা। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও প্রচার কমিটির সদস্য মুহাম্মদ জাহিদুর রহমানও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য শক্তিশালী বিরোধীদলের ভূমিকা অপরিহার্য। সরকার ও বিরোধীদল—এই দুই পক্ষের কার্যকর ভূমিকা ছাড়া গণতন্ত্র পূর্ণতা পায় না।
তবে সংসদে বিরোধীদল হিসেবে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে সংসদের বাইরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা।
তার ভাষ্য, ৩০০ সংসদীয় আসনের উন্নয়ন তহবিল বণ্টনের ক্ষেত্রে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যে পরিমাণ বরাদ্দ পাচ্ছেন, বিরোধীদলীয় সদস্যরা তার কাছাকাছিও সুযোগ পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ ও বরাদ্দ কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। দেশের সব নাগরিকের উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব। উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়তে থাকলে সমাজে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধীদলের নির্বাচনী এলাকার দায়িত্বে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী সদস্যদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য ইতিবাচক নয়।
বর্তমান আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের কর্মসূচি নিয়মতান্ত্রিক এবং জনগণের দাবি ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই আন্দোলন চলছে। সংসদের ভেতরে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাইলেও পরিস্থিতির কারণে তাদের রাজপথে যেতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, দেশে কোনো নতুন স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।