আড্ডার জন্য আসলে কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট স্থান, মঞ্চ কিংবা আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও আড্ডার শর্ত নয়। বরং আড্ডার সৌন্দর্য তার স্বতঃস্ফূর্ততায়। অথচ ব্যস্ত নগরী ঢাকায় এখন অনেক আড্ডাই বসে আনুষ্ঠানিক আয়োজনের ব্যানারে। তেমনই এক সন্ধ্যার সাক্ষী হলো রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের পাঠক সমাবেশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় পাঠক সমাবেশে বসেছিল ‘শব্দে গাঁথা জীবন: সরকার আবদুল মান্নানের জন্মদিনের আড্ডা’ নামের আয়োজন। নামের মধ্যে আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেটি পরিণত হয় বন্ধু, স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রাণখোলা কথোপকথনে।
কথার ভাঁজে ভাঁজে উঠে আসে ড. সরকার আবদুল মান্নানের শিক্ষকতা, সাহিত্যচর্চা, চিন্তাভাবনা ও ব্যক্তিজীবনের নানা দিক। কখন যে আলাপ জমতে জমতে ঘড়ির কাঁটা রাত ৯টা ছুঁয়ে ফেলে, তা যেন কারও খেয়ালেই ছিল না। অথচ কথা তখনো শেষ হয়নি। অনেকের বলার ছিল আরও অনেক কিছু।
আয়োজনের আনুষ্ঠানিক অংশটুকুও ছিল বেশ প্রাণবন্ত। সেখানে সরকার আবদুল মান্নানের শিক্ষাভাবনা নিয়ে কথা বলেন সাহিত্যিক ও শিক্ষক ঝর্না রহমান।
সরকার আবদুল মান্নানকে একজন প্রকৃত শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ শিক্ষার সঙ্গে আনন্দের সংযোগের অভাবের কথা বলেছিলেন। কিন্তু মান্নান সেই দূরত্ব ঘোচাতে পেরেছেন। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যসূচির মধ্যে আটকে না রেখে তাদের চিন্তা ও চেতনার জগৎকে প্রসারিত করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
ঝর্না রহমানের ভাষায়, শিক্ষকতা মান্নানের কাছে শুধু সিলেবাস শেষ করা কিংবা মাস শেষে বেতন নেওয়ার বিষয় নয়। শিক্ষার্থীদের ভেতরের সম্ভাবনা ও শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে তিনি বইয়ের বাইরের বিশাল জগতের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।
আলোচনায় উঠে আসে তাঁর আরেক পরিচয়—প্রাবন্ধিক মান্নান। কেউ কেউ স্মরণ করেন তাঁর শিশু সাহিত্যিক সত্তাকেও। ফলে জন্মদিনের এই আড্ডায় একজন মানুষকে যেন নানা পরিচয়ের আলোয় নতুন করে আবিষ্কার করেন উপস্থিতজনেরা।
শুভাকাঙ্ক্ষীরা ফুল, বই ও উত্তরীয় উপহার দিয়ে ড. সরকার আবদুল মান্নানের দীর্ঘায়ু কামনা করেন। ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে নিজের শৈশব ও স্বভাবের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
সরকার আবদুল মান্নান বলেন, “আমার মা একটি কথা বলতেন, তোর বাবার রাস্তা দেখলেই হাঁটতে ইচ্ছে করতো, আর মানুষ দেখলেই কথা বলতে ভালোবাসতেন। তুই সেই স্বভাবটাই পেয়েছিস। আমার আজও মানুষ দেখলেই কথা বলতে ভালো লাগে। আজও আমি রাস্তায় হাঁটি।”
জীবনকে স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষ