চলতি মূলধনের সংকটে থাকা ক্ষুদ্র, কুটির, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)।
ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রম ধরে রাখা, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং সিএমএসএমই খাতের টেকসই বিকাশে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
গত ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি বিনিময় হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. জবদুল ইসলাম এবং এমটিবির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিবিও চৌধুরী আখতার আসিফ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. আনিছুর রহমান। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক নাহিদ রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক শাহানাজ পারভীন এবং এমটিবির হেড অব এসএমই অ্যান্ড এগ্রি ব্যাংকিং ডিভিশন সঞ্জীব কুমার দেসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তারল্য দিয়ে গঠিত এ ঘূর্ণায়মান তহবিলের মেয়াদ তিন বছর। স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। অন্যদিকে উদ্যোক্তা বা গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ শতাংশ।
নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ঋণগ্রহীতারা তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধাও নিতে পারবেন।
মূলত পর্যাপ্ত চলতি মূলধনের অভাবে যারা ব্যবসার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছেন না, এমন সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ তহবিলের আওতায় সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সিআইবি অনুযায়ী খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এ সুবিধা পাবেন না।
স্কিমটিতে যুক্ত হওয়ার ফলে সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য তুলনামূলক সহজ শর্তে চলতি মূলধন জোগানের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে এমটিবি। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তার পাশাপাশি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও অবদান রাখার লক্ষ্য রয়েছে।