বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এবার জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষকদের সম্মাননার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ১২ জন শিক্ষককে দেওয়া এই সম্মাননা এবার বাড়িয়ে ১০০ জন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শিক্ষককে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার কথা রয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন।
সভায় ড. মাহদি আমিন বলেন, এতদিন জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে গুণী শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হতো। এবার প্রথমবারের মতো সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ জন করা হচ্ছে। প্রাথমিক থেকে তৃতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শিক্ষককে এর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়ের সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা এ সম্মাননার জন্য বিবেচিত হবেন। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও থাকবেন তালিকায়।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চিকিৎসা, কৃষি, প্রকৌশল, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত শাখার শিক্ষকদের মধ্য থেকেও গুণী শিক্ষক নির্বাচন করা হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া শিক্ষকদের তালিকা নিয়ে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় আলোচনা চলছে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে গুণী শিক্ষক নির্বাচন করা হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরিতে যারা কাজ করছেন, তাদের সম্মান ও মর্যাদা বাড়ানোর লক্ষ্যেই শিক্ষক দিবসে সম্মাননার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দিবসটি উদযাপনের কথা রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানেই নির্বাচিত গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।