ত্বকের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ক্যান্সারগুলোর একটি মেলানোমা চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। রোগীর টিউমারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তৈরি ব্যক্তিগত এমআরএনএ ভ্যাকসিনের সঙ্গে ইমিউনোথেরাপির ওষুধ কিট্রুডা প্রয়োগ করে ক্যান্সার পুনরায় ফিরে আসা এবং শরীরের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানোর আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছেন গবেষকেরা। মার্ক ও মডার্নার যৌথভাবে তৈরি পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন ইন্টিসমেরান (Intismeran)। এর আগের গবেষণাতেও কিট্রুডার সঙ্গে এই ভ্যাকসিন ব্যবহারে উচ্চ ঝুঁকির মেলানোমা রোগীদের ক্যান্সারমুক্ত থাকার সময় বাড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক বড় পরিসরের ট্রায়ালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা উচ্চ ঝুঁকির মেলানোমা রোগীদের ওপর চিকিৎসাটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে কিট্রুডা একা ব্যবহারের তুলনায় ভ্যাকসিন ও কিট্রুডার সমন্বিত চিকিৎসায় রোগ ফিরে আসা ও দূরবর্তী অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেখা গেছে।
ইন্টিসমেরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—এটি সবার জন্য একইভাবে তৈরি করা হয় না। প্রতিটি রোগীর ক্যান্সার কোষে থাকা নির্দিষ্ট জেনেটিক পরিবর্তন বা মিউটেশন শনাক্ত করে তার ভিত্তিতে ব্যক্তিগত ভ্যাকসিনের নকশা তৈরি করা হয়।
সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারের নমুনা সংগ্রহের পর সেটির জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর ক্যান্সার কোষে থাকা নির্দিষ্ট ‘নিওঅ্যান্টিজেন’ শনাক্ত করে সেগুলোকে লক্ষ্য করার মতো এমআরএনএভিত্তিক ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।
এর উদ্দেশ্য হলো রোগীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমকে ক্যান্সার কোষের বিশেষ বৈশিষ্ট্য চিনতে শেখানো, যাতে শরীরে থেকে যাওয়া ক্যান্সার কোষকে শনাক্ত করে ধ্বংস করার ক্ষমতা আরও বাড়ে। এই প্রযুক্তিতে এমআরএনএ ব্যবহার করা হয়েছে, যে প্রযুক্তি কোভিড-১৯-এর কয়েকটি ভ্যাকসিনেও ব্যবহৃত হয়েছে।
আগের পর্যায়ের KEYNOTE-942 গবেষণায় কিট্রুডার সঙ্গে ব্যক্তিগত ভ্যাকসিন ব্যবহারে ক্যান্সার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি দূরবর্তী অঙ্গে মেটাস্টেসিসের ঝুঁকিও কমেছে। প্রায় তিন বছরের ফলোআপেও এই সুবিধা বজায় থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। বিশেষজ্ঞরা তাই ফলাফলকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখলেও দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ও রোগীদের সামগ্রিক বেঁচে থাকার ওপর প্রভাব সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।
মেলানোমার পাশাপাশি একই ধরনের ব্যক্তিগত ক্যান্সার ভ্যাকসিন প্রযুক্তি ফুসফুস, মূত্রথলি ও কিডনি ক্যান্সারসহ অন্যান্য টিউমারের ক্ষেত্রেও পরীক্ষা করা হচ্ছে। গবেষকদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি রোগীর ক্যান্সারের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ইমিউন সিস্টেমকে লক্ষ্যভিত্তিকভাবে সক্রিয় করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলাফল চূড়ান্তভাবে সফল হলে ক্যান্সার চিকিৎসায় ‘একই ওষুধ সবার জন্য’ পদ্ধতির বাইরে ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসার পরিধি আরও বড় হতে পারে। তবে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল তথ্যের প্রয়োজন হবে।