প্লাস্টিক দূষণ কমিয়ে দৈনন্দিন ব্যবহারে পরিবেশবান্ধব বিকল্প তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে সাস্তোরা লিমিটেড। ২০২৫ সালে কার্যক্রম শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ১০০ শতাংশ বায়োডিগ্রেডেবল ও কম্পোস্টেবল ব্যাগ উৎপাদনের মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সাশ্রয়ী ও ব্যবহারিক প্যাকেজিং সমাধান নিয়ে কাজ করছে।
পরিবেশবান্ধব পণ্য মানেই বেশি দাম—এমন প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে সাশ্রয়ী মূল্য, শক্তিশালী বহনক্ষমতা, কাস্টমাইজেশন এবং স্থানীয় উৎপাদনকে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সাস্তোরার প্রধান পণ্য ‘সাস্তোরা বায়ো ব্যাগ’ দেশের বিভিন্ন ব্যবসা ও খুচরা প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির আহমদ আখতার (সামির)-এর নেতৃত্বে পরিবেশবান্ধব ব্যাগের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে সাস্তোরা।
সাস্তোরার পণ্য তথ্য অনুযায়ী, তাদের বায়ো ব্যাগ ১০০ শতাংশ বায়োডিগ্রেডেবল ও কম্পোস্টেবল উপাদান ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যাগটি ব্যবহারের পর প্রায় ১৮০ দিনের মধ্যে জৈবভাবে ভেঙে যেতে পারে এবং এতে ক্ষতিকর বিষাক্ত অবশিষ্টাংশ থাকার ঝুঁকি নেই।
প্রচলিত প্লাস্টিকের পরিবর্তে উদ্ভিদভিত্তিক কাঁচামাল বা প্ল্যান্ট-বেইজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করে ব্যাগগুলো তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে ব্যবহারের পর দীর্ঘদিন পরিবেশে থেকে যাওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পরিবেশবান্ধব পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলো খরচ। এ জায়গায় সাস্তোরা তাদের বায়ো ব্যাগকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের বায়ো ব্যাগ নন-ওভেন ব্যাগের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কম দামে সরবরাহ করা সম্ভব। একই সঙ্গে জুট ও পেপার ব্যাগের তুলনায় খরচ ২ থেকে ৫ গুণ পর্যন্ত কম হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে ব্যাগের প্রকৃত মূল্য নির্ভর করবে এর আকার, পুরুত্ব, প্রিন্টিং, অর্ডারের পরিমাণ এবং কাস্টমাইজেশনের ধরনের ওপর।
সাস্তোরা বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ তৈরি করছে। এর মধ্যে রয়েছে শপিং ব্যাগ, গার্বেজ ব্যাগ, প্যাকিং ব্যাগ এবং পেট ওয়েস্ট ব্যাগ।
প্রতিষ্ঠানটির পণ্য তালিকায় ডব্লিউ-কাট ক্যারি ব্যাগ, ডি-কাট ক্যারি ব্যাগ এবং ফ্ল্যাট ব্যাগ রয়েছে। এসব ব্যাগ সুপারমার্কেট, গ্রোসারি শপ, পোশাকের দোকান, জুতার দোকান, বইয়ের দোকান, মিষ্টির দোকান, ফার্মেসি, বেকারি, গিফট শপ, বুটিকসহ বিভিন্ন ধরনের খুচরা ব্যবসায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিভিন্ন আকার ও ডিজাইনের কারণে সাস্তোরা বায়ো ব্যাগে প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন বহনক্ষমতার সুবিধা রাখা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পণ্য তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মডেলের ব্যাগে প্রায় ১ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ১২ কেজি পর্যন্ত পণ্য বহনের সক্ষমতা থাকতে পারে। বিশেষ করে ডি-কাট ক্যারি ব্যাগের বিভিন্ন মডেলে ২–৩ কেজি থেকে শুরু করে ১০–১২ কেজি পর্যন্ত বহনক্ষমতার বিকল্প রয়েছে।
ফলে ছোট দোকানের হালকা পণ্য থেকে শুরু করে সুপারশপ বা রিটেইল ব্যবসার তুলনামূলক ভারী পণ্য বহনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাগ নির্বাচন করা সম্ভব।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সাস্তোরা বায়ো ব্যাগে কাস্টমাইজেশনের সুবিধাও রাখা হয়েছে। ছোট থেকে এক্সএল পর্যন্ত বিভিন্ন আকারে ব্যাগ তৈরি করার পাশাপাশি কাস্টম এক রঙের প্রিন্টিং এবং করপোরেট ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগ রয়েছে।
এর মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের লোগো, প্রতিষ্ঠানের নাম বা নিজস্ব ব্র্যান্ড পরিচিতি ব্যাগে যুক্ত করতে পারবে। ফলে পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ের পাশাপাশি ব্যাগটি ব্র্যান্ড প্রচারের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
সাস্তোরা বাংলাদেশেই পণ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ঢাকায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
স্থানীয় উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে বড় পরিসরের অর্ডার, নির্দিষ্ট আকার, ভিন্ন ডিজাইন এবং কাস্টম প্রিন্টিংয়ের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সাস্তোরার মতে, শুধু পরিবেশবান্ধব হলেই কোনো পণ্য বাজারে দীর্ঘমেয়াদে জনপ্রিয় হবে না; ব্যবসায়ীদের জন্য সেটি অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক দিক থেকেও কার্যকর হতে হবে।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পণ্য উন্নয়নে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা, সাশ্রয়ী মূল্য এবং ব্যবহারিক সক্ষমতা।
প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড বার্তা ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি, রেসপনসিবল ও ফিউচার-রেডি’—পরিবেশ, ব্যবসা এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনের মধ্যে সমন্বয়ের কথাই তুলে ধরে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির আহমদ আখতার (সামির)-এর নেতৃত্বে সাস্তোরার লক্ষ্য দেশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংকে আরও সহজলভ্য করে তোলা।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে শুধু নিষেধাজ্ঞা বা সচেতনতা কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন বিকল্প পণ্য, যা একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব, মানসম্মত, টেকসই এবং ব্যবসার জন্য সাশ্রয়ী।
সুপারশপ, ফার্মেসি, বেকারি, রেস্টুরেন্ট, ফ্যাশন হাউজ, ই-কমার্সসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্যাকেজিং চাহিদাকে সামনে রেখে বিভিন্ন আকার, ডিজাইন, বহনক্ষমতা ও ব্র্যান্ডিং সুবিধাসহ বায়ো ব্যাগ সরবরাহে কাজ করছে সাস্তোরা।
পরিবেশের জন্য দায়িত্বশীল, ব্যবসার জন্য সাশ্রয়ী এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত—প্লাস্টিকের বিকল্প প্যাকেজিংয়ে এমন সমন্বিত সমাধান নিয়েই এগিয়ে যেতে চায় সাস্তোরা।