ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র শহর মক্কা লক্ষ্য করে ড্রোন নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের বিরুদ্ধে। সৌদি আরবের দাবি, মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে ড্রোনটি শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে সৌদি আরবের এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হুথি বাহিনী। মক্কা কিংবা অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলার কোনো পরিকল্পনা বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছে তারা।
ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুরকি আল মালকি এক বিবৃতিতে জানান, স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মক্কার আকাশসীমায় একটি আক্রমণাত্মক ড্রোন শনাক্ত করা হয়। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তুরকি আল মালকি বলেন, কাবা, মসজিদে নববি এবং দুই পবিত্র মসজিদে আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। তাদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সৌদি জোটের এই মুখপাত্র দাবি করেন, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার চেষ্টা এবারই প্রথম নয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কা লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। সেটিও লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত করে ধ্বংস করেছিল বলে দাবি সৌদি পক্ষের।
সৌদি পক্ষের বক্তব্য প্রকাশের পরই মক্কায় ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে হুথি গোষ্ঠী।
ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সাবা নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুথি বাহিনীর হাইকমান্ড জানায়, মক্কায় হামলার যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইয়েমেনের পক্ষ থেকে মক্কা বা অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলার হুমকি রয়েছে—এমন অভিযোগও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর আগে সোমবার সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ শহরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর। পরের বছর হুথিরা রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণে নেয়। ওই সময় ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন।
হুথিদের দখল থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা পুনরুদ্ধার এবং মনসুর হাদি সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
পরবর্তীতে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।