হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সেনা সদস্যদের বহনকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার জন্য ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্যদের দায়ী করা হচ্ছে। এতে কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে পেন্টাগনের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজটিতে চারটি ইরানি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন।
তবে জাহাজটিতে মোট কতজন মার্কিন সেনা ছিলেন কিংবা আহতের সংখ্যা কত—এ বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের অবস্থা গুরুতর নয়। তাদের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশের যেকোনো একটিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হামলার শিকার জাহাজটির যাত্রা শুরুর স্থান বা গন্তব্য সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা যায়নি। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনী বা সরকারের মালিকানাধীন ছিল না। এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চুক্তির আওতায় পরিচালিত একটি বাণিজ্যিক জাহাজ।
ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ফক্স নিউজ মার্কিন নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের সেন্টকমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে সেন্টকমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি।
এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন কিংবা তেহরানের পক্ষ থেকেও ঘটনাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে প্রণালিটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ ব্যবহারে টোল আরোপের ঘোষণা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে।
এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের অবরোধের ঘোষণার পর ইরানি বন্দরগুলোতেও পাল্টা অবরোধ আরোপের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে ইরানের বন্দরগুলোতে দেশি-বিদেশি জাহাজের প্রবেশ ও বহির্গমন কার্যত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।