কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন দৈনন্দিন কাজের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হয়ে উঠেছে। লেখালেখি, ছবি তৈরি ও সম্পাদনা, ভিডিও নির্মাণ, অনুবাদ, গবেষণা কিংবা তথ্য বিশ্লেষণ—প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার বাড়ছে। তবে জনপ্রিয় এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর ফ্রি সংস্করণে নির্দিষ্ট কিছু ফিচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমা থাকে। ফলে নির্ধারিত সীমা শেষ হয়ে গেলে অনেক সময় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।
তবে কাজ থামিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। বিকল্প কিছু ফ্রি এআই টুল সম্পর্কে ধারণা থাকলে সহজেই অন্য প্ল্যাটফর্মে কাজ চালিয়ে যাওয়া যায়। পাশাপাশি সঠিকভাবে প্রম্পট লিখতে পারলে কম সময়েই আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
এআই দিয়ে ছবি তৈরি বা সম্পাদনার জন্য বর্তমানে বেশ কিছু টুল ব্যবহার করা যায়। এর মধ্যে পারচেঞ্জ এআই ইমেজ জেনারেটর, ওপেনআর্ট, ডিপএআই এবং ফ্রিপিক এআই উল্লেখযোগ্য।
ওপেনআর্টে নতুন ছবি তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান ছবির বিভিন্ন অংশ সম্পাদনা, এমনকি ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তনের সুবিধাও রয়েছে। মাইক্রোসফট ডিজাইনার ও অ্যাডোবি ফায়ারফ্লাইয়েও বিনামূল্যে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ছবি তৈরির সুযোগ পাওয়া যায়।
দ্রুত ছবি তৈরি করতে চাইলে পারচেঞ্জ এআই ইমেজ জেনারেটর ব্যবহার করা যেতে পারে। এর অন্যতম সুবিধা হলো, ছবি তৈরির জন্য আলাদা করে অ্যাকাউন্ট খোলা বা সাইন-আপ করার প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে দ্রুত ভিজ্যুয়াল আর্ট তৈরির জন্য ডিপএআইও বেশ কার্যকর একটি বিকল্প।
শুধু ভালো একটি এআই টুল ব্যবহার করলেই কাঙ্ক্ষিত ছবি পাওয়া যাবে—বিষয়টি এমন নয়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক প্রম্পট বা নির্দেশনা।
অনেকে শুধু ‘একটি সুন্দর ছবি তৈরি করো’ লিখে ফলাফল আশা করেন। কিন্তু এ ধরনের অস্পষ্ট নির্দেশনায় এআই অনেক সময় ব্যবহারকারীর প্রত্যাশা অনুযায়ী ছবি তৈরি করতে পারে না।
ভালো ফল পেতে প্রম্পটে ছবির বিষয়বস্তু, পরিবেশ, আলোর ধরন, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল, ছবির অনুপাত ও কাঙ্ক্ষিত শৈলী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। ছবিতে কোন উপাদান থাকবে এবং কোনটি থাকবে না, সেটিও প্রয়োজনে লিখে দেওয়া যায়।
উদাহরণ হিসেবে, শুধু ‘একজন তরুণের ছবি তৈরি করো’ না লিখে তার পোশাক, বয়স, অবস্থান, পরিবেশ, আলোর ধরন, ক্যামেরার দৃষ্টিকোণ ও ছবির স্টাইল উল্লেখ করলে অনেক বেশি নির্দিষ্ট ফল পাওয়া যায়।
চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো প্ল্যাটফর্মে টেক্সট চ্যাট, ছবি তৈরি কিংবা ডেটা বিশ্লেষণের মতো বিভিন্ন ফিচারের ব্যবহারে আলাদা সীমা থাকতে পারে। ফ্রি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা শেষ হয়ে গেলে সাধারণত কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয়। পরে সীমা পুনরায় চালু হলে আবার আগের মতো ব্যবহার করা যায়।
তবে জরুরি কাজ থাকলে অপেক্ষা না করে মাইক্রোসফট কোপাইলট, পারপ্লেক্সিটি কিংবা অন্য কোনো বিকল্প এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—একই নির্দেশ বারবার না দিয়ে শুরুতেই পরিষ্কার ও সুনির্দিষ্ট প্রম্পট দেওয়া ভালো। এতে অপ্রয়োজনীয় চেষ্টা কমে এবং অনেক সময় নির্দিষ্ট ব্যবহারের সীমাও দ্রুত শেষ হওয়ার হাত থেকে বাঁচা যায়।
এআইয়ের জগতে কোনো একটি প্ল্যাটফর্মের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। একটি টুলে ব্যবহারের সীমা শেষ হলে অন্য টুলে কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়। আবার একেকটি প্ল্যাটফর্ম একেক ধরনের কাজে ভালো ফল দেয়।
তাই ছবি তৈরি, লেখালেখি, গবেষণা বা তথ্য বিশ্লেষণ—কাজের ধরন অনুযায়ী কয়েকটি বিকল্প এআই টুল সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং সঠিক প্রম্পট লেখার অভ্যাস গড়ে তোলা হলে এআই ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও কার্যকর হয়ে উঠবে।