রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মেসি-ওতামেন্দির পর আর্জেন্টিনার নতুন দল বদলের আভাস স্কালোনির স্কোয়াডে পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ জাকির নায়েককে ফেরত চাওয়া নিয়ে মোদির সঙ্গে আনোয়ারের আলোচনা স্ক্র্যাপের আড়ালে ব্যবহারযোগ্য পণ্য আমদানি করলে কঠোর ব্যবস্থা: এনবিআর ডেঙ্গু ঠেকাতে সারাদেশে প্রচারপত্র বিতরণ করবে বিএনপি বাংলাদেশে বিদেশি অপরাধচক্রের তৎপরতা, সাইবার প্রতারণায় বাড়ছে উদ্বেগ বাউফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু নবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান- ২০২৬ উদ্বোধন বাউফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩০০ কপি পবিত্র কোরআন বিতরণ সমাজ থেকে ধর্ষণ-নারী নির্যাতনসহ সব অপরাধ মুছে দেবে বিএনপি: রিজভী

বহু বছর আগের বিব্রতকর ঘটনা হঠাৎ মনে পড়ে কেন?

ইমরোজ শাহেদ
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

দিনটি একেবারেই স্বাভাবিক। আপনি নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই মনে পড়ে গেল বহু বছর আগের একটি ঘটনা। ধরুন, ২০১৬ সালের কোনো এক অনুষ্ঠানে কেউ আপনাকে এমন কিছু বলেছিল, যা তখন আপনাকে ভীষণ অস্বস্তিতে ফেলেছিল। আশপাশের মানুষ হয়তো সেই ঘটনা অনেক আগেই ভুলে গেছে। অথচ আপনার মস্তিষ্কে সেটি এখনো স্পষ্ট—এমনকি ঘটনার সময়কার অস্বস্তিটুকুও যেন একই রকম অনুভূত হয়।

অদ্ভুত মনে হলেও এমন অভিজ্ঞতা খুবই সাধারণ। কারণ মানুষের মস্তিষ্ক সব স্মৃতিকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষণ করে না। যেসব ঘটনার সঙ্গে প্রবল আবেগ জড়িয়ে থাকে, সেগুলো সাধারণ তথ্যের তুলনায় অনেক বেশি শক্তভাবে মনে গেঁথে যেতে পারে।

লজ্জা, ভয়, আনন্দ কিংবা গভীর অস্বস্তির মতো অনুভূতি কোনো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হলে মস্তিষ্ক সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে ধরে নিতে পারে। ফলে বহু বছর পরও সেই স্মৃতি হঠাৎ ফিরে আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

আবেগের তীব্রতা স্মৃতিকে শক্ত করে

কোনো বিব্রতকর মুহূর্তে সাধারণত নিজের সামাজিক ভাবমূর্তি নিয়ে এক ধরনের তাৎক্ষণিক সংকট তৈরি হয়। অন্যরা কী ভাবল, তারা আমাকে কীভাবে দেখল—এ ধরনের প্রশ্ন তখন খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মস্তিষ্কও ঘটনাটিকে ভবিষ্যতে এড়িয়ে চলার মতো একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।

একই কারণে কোনো দুর্ঘটনা বা দুর্ঘটনার কাছাকাছি চলে যাওয়ার ঘটনাও বহু বছর পর মনে থাকতে পারে। এসব অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভয় ও তীব্র আবেগ জড়িত থাকে।

অর্থাৎ স্মৃতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তার ক্ষেত্রে শুধু ঘটনার গুরুত্ব নয়, সেই মুহূর্তে অনুভূত আবেগও বড় ভূমিকা রাখে।

সামাজিক অপমান কেন এত বেশি কষ্ট দেয়?

মানুষ স্বভাবতই সামাজিক জীব। একটি গোষ্ঠীর অংশ হয়ে থাকা এবং অন্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়া আমাদের মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রত্যাখ্যান, অপমান কিংবা অন্যের সামনে বিব্রত হওয়ার অভিজ্ঞতা মস্তিষ্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মস্তিষ্কের ব্যথা-প্রক্রিয়াকরণের কিছু একই ধরনের স্নায়বিক কার্যক্রমের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে সামাজিকভাবে আঘাত পাওয়ার অভিজ্ঞতাও আমাদের কাছে বাস্তব শারীরিক ব্যথার মতো তীব্র মনে হতে পারে।

এই কারণেই অন্যদের সামনে ঘটে যাওয়া কোনো বিব্রতকর ঘটনা অনেক দিন পরও মনে পড়লে অস্বস্তি তৈরি হয়। মস্তিষ্ক যেন মনে করিয়ে দেয়—এমন পরিস্থিতি আবার যেন না ঘটে।

যে স্মৃতির সঙ্গে আবেগ রয়ে যায়, সেটিই বারবার ফিরে আসতে পারে

কোনো বিব্রতকর ঘটনার পর যদি সেটি নিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলা না হয়, পরিস্থিতিটিকে অন্যভাবে দেখার সুযোগ না আসে কিংবা সময়ের সঙ্গে ঘটনাটিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা না যায়, তাহলে তার সঙ্গে যুক্ত আবেগ দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকতে পারে।

এ ক্ষেত্রে পুরোনো স্মৃতি হঠাৎ ফিরে আসাকে মস্তিষ্কের এক ধরনের মানসিক প্রক্রিয়াকরণ হিসেবেও দেখা যায়। মস্তিষ্ক যেন এখনো ঘটনাটির অর্থ বুঝতে বা তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছে।

অনেক সময় কাছের মানুষের সঙ্গে ঘটনাটি ভাগ করে নেওয়া, নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে হাসতে পারা কিংবা সময়ের দূরত্ব থেকে বিষয়টিকে দেখা অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

মস্তিষ্ক আসলে সতর্ক করতে চায়

পুরোনো বিব্রতকর স্মৃতি মনে পড়া বিরক্তিকর হলেও এর পেছনে মস্তিষ্কের একটি প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার জন্যই মস্তিষ্ক এমন স্মৃতি ধরে রাখতে পারে।

কোনো ভুলের কথা মনে পড়লে যে অস্বস্তি তৈরি হয়, সেটিও সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা আরও শক্তভাবে মনে গেঁথে দেওয়ার একটি উপায় হতে পারে।

সমস্যা হলো, মস্তিষ্ক সবসময় বুঝতে পারে না কখন সেই শিক্ষা যথেষ্ট হয়েছে। ফলে কয়েক মিনিটের একটি বিব্রতকর ঘটনা কয়েক বছর পরও হঠাৎ মনে পড়ে যেতে পারে।

অন্যরা হয়তো ঘটনাটি আপনাকে যতটা মনে রাখেনি

বিব্রতকর কোনো ঘটনা মনে পড়লে আমাদের প্রায়ই মনে হয়, সেদিন উপস্থিত সবাই নিশ্চয়ই বিষয়টি লক্ষ্য করেছিল এবং এখনো সেটি মনে রেখেছে। বাস্তবে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।

মনোবিজ্ঞানে এই প্রবণতাকে ‘স্পটলাইট এফেক্ট’ বলা হয়। আমরা নিজের আচরণ, পোশাক, ভুল কিংবা বিব্রতকর মুহূর্তকে অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান মনে করি। মনে হয় যেন সবার চোখ তখন আমাদের ওপরই ছিল।

কিন্তু অন্যরা সাধারণত নিজেদের নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে। ফলে আপনি যে ঘটনাকে বছরের পর বছর মনে রেখেছেন, সেটি হয়তো অন্য কারও স্মৃতিতে কয়েক মিনিটের বেশি জায়গাই পায়নি।

পুরোনো বিব্রতকর স্মৃতি ফিরে এলে কী মনে রাখবেন?

হঠাৎ বহু বছর আগের কোনো অস্বস্তিকর ঘটনা মনে পড়ে গেলে নিজেকে অস্বাভাবিক ভাবার কারণ নেই। মানুষের মস্তিষ্ক এমনভাবেই কাজ করে। তীব্র আবেগের অভিজ্ঞতা সে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ধরে রাখে, অতীতের ভুল থেকে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করে এবং অনেক সময় অন্যরা আমাদের কতটা লক্ষ্য করেছে, সেটিও আমরা বাস্তবতার চেয়ে বেশি মনে করি।

তাই পরেরবার পুরোনো কোনো বিব্রতকর স্মৃতি হঠাৎ মনে পড়লে নিজেকে মনে করিয়ে দিতে পারেন—ঘটনাটি হয়তো আমার কাছে যতটা বড় মনে হচ্ছে, অন্যদের কাছে তা ততটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।

আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে বিব্রত করতে চাইছে না; বরং পুরোনো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আপনাকে নিরাপদ রাখতে চাইছে। আর সময়ের সঙ্গে সেই স্মৃতির আবেগও ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যেতে পারে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩০ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
  • ১৬:২৩ অপরাহ্ণ
  • ১৮:১১ অপরাহ্ণ
  • ১৯:২৫ অপরাহ্ণ
  • ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ
©2026 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102