দাম ২ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। তাই উন্মোচনের পর থেকেই প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল স্ন্যাপের স্মার্ট চশমা ‘স্পেকস’। এবার চশমাটিকে শুধু পরিধানযোগ্য প্রযুক্তিপণ্য হিসেবে নয়, বরং দৈনন্দিন কাজ, বিনোদন ও ব্যবসায়িক ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে একগুচ্ছ নতুন সুবিধা যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব নতুন ফিচার তুলে ধরেন স্ন্যাপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ইভান স্পিগেল। তার ভাষ্য, স্পেকসকে এমন একটি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যা ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন ডিজিটাল কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে।
নতুন সুবিধাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ‘স্পেকস ইন্টেলিজেন্স’। স্ন্যাপ একে ‘অ্যান্টিসিপেটরি এআই’ হিসেবে বর্ণনা করছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই এআই ব্যবস্থা ব্যবহারকারীর অনুমোদিত বিভিন্ন ডিভাইস, অ্যাপ ও ডিজিটাল টুলের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কাজ করতে পারবে। আইফোন ও ম্যাকের পাশাপাশি বিভিন্ন অ্যাপ থেকে তথ্য নিয়ে ব্যবহারকারীর কাজের ধরন, অগ্রাধিকার, সম্পর্ক ও দৈনন্দিন অভ্যাস সম্পর্কে ধারণা তৈরির চেষ্টা করবে এটি।
ইভান স্পিগেল নতুন ব্যবস্থাটিকে ‘এআই নেটিভ অপারেটিং সিস্টেম’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, বিভিন্ন কাজ ও তথ্যের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে প্রয়োজনীয় সময়ে ব্যবহারকারীকে সঠিক কাজে মনোযোগ দিতে সহায়তা করবে এটি।
তবে কার্যপ্রণালীর দিক থেকে ফিচারটি অনেকটা এআইনির্ভর প্রোডাক্টিভিটি সেবার মতো কাজ করবে। স্মার্ট চশমার পাশাপাশি অন্যান্য ডিভাইস থেকেও এর সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
শুধু কাজের সুবিধা নয়, বিনোদনের ক্ষেত্রেও স্পেকসকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে স্ন্যাপ।
নতুন সংযুক্তির মাধ্যমে স্পেকস ব্যবহার করে এইচবিও ম্যাক্স ও স্পটিফাইয়ের কনটেন্ট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। অর্থাৎ চশমাটির মাধ্যমে ভিডিও দেখা ও সংগীত শোনার মতো বিনোদনমূলক কাজও করা যাবে।
প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে স্পেকসের ব্যবহার বাড়াতে ‘স্পেকস ফর এন্টারপ্রাইজ’ নামে নতুন কর্মসূচি চালু করেছে স্ন্যাপ। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কাজের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার সঙ্গে স্মার্ট চশমাটি যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।
এ উদ্যোগে অ্যামাজন, সেলসফোর্স ও এনভিডিয়ার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের কথা জানিয়েছে স্ন্যাপ।
একটি প্রদর্শনীতে প্রযুক্তি সহায়তাকর্মীকে যন্ত্রপাতি মেরামতের সময় স্পেকস ব্যবহার করতেও দেখা গেছে। কর্মক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য মোবাইল ডিভাইস ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে ডিভাইস পরিচালনার সুবিধা তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
খেলাধুলার জন্যও স্পেকসে নতুন অভিজ্ঞতা যোগ করা হচ্ছে। এনবিএ ও ডব্লিউএনবিএর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে তৈরি একটি এআর অ্যাপের মাধ্যমে বাস্কেটবল অনুশীলনে সহায়তা করার পরিকল্পনা করেছে স্ন্যাপ।
অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে খেলোয়াড়ের অনুশীলন ও শট নেওয়ার ধরন বিশ্লেষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করার লক্ষ্য রয়েছে এই অ্যাপের।
ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু ওয়াই-ফাইয়ের ওপর নির্ভরশীল না থাকার জন্য নতুন সংযোগ সুবিধাও আনছে স্ন্যাপ।
আলাদাভাবে বিক্রি করা একটি প্যাকেজে বিল্ট-ইন সেলুলার সংযোগযুক্ত চার্জিং কেস থাকবে। ভেরাইজনের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই সুবিধা দেওয়া হবে। ভেরাইজন গ্রাহকদের জন্য এর মাসিক খরচ হবে ১০ ডলার। অন্য গ্রাহকদের দিতে হবে মাসে ২০ ডলার।
স্ন্যাপের ভাষ্য অনুযায়ী, স্পেকসকে মূলত একটি পরিধানযোগ্য কম্পিউটার হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। ইভান স্পিগেলের মতে, এটি এমন এক ধরনের কম্পিউটার, যা ব্যবহারকারীর চোখের সামনে নয়, সরাসরি শরীরে পরা যায়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভার্চ্যুয়াল জগতের বিস্তারের সঙ্গে প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন বদলে যাচ্ছে উল্লেখ করে স্পিগেল বলেন, কম্পিউটারের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষকে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করা।
তবে ২ হাজার ২০০ ডলারের মূল্য ট্যাগ সাধারণ ক্রেতাদের কাছে স্পেকসকে কতটা গ্রহণযোগ্য করে তুলবে, সেটি এখনো দেখার বিষয়। স্ন্যাপ জানিয়েছে, আগামী অক্টোবরে লস অ্যাঞ্জেলেসে স্পেকসের জন্য অস্থায়ী প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র চালু করা হবে। এরপর শরৎ মৌসুমের শেষ দিকে চশমাটি বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।