হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টানা কয়েক দিনের অভিযানে প্রায় ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকার চোরাচালান ও অবৈধভাবে আনা পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শুক্রবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ১৭ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত বিমানবন্দরের বিভিন্ন শিফটে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। যাত্রীদের প্রোফাইলিং ও ব্যাগেজ তল্লাশির মাধ্যমে একাধিক চোরাচালানের চেষ্টা শনাক্ত করা হয়েছে।
১৭ আগস্ট দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের একটি ফ্লাইটের যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে ৮৮১ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ পেস্ট উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী প্রক্রিয়ায় সেখান থেকে ৪৬১ গ্রাম স্বর্ণপিণ্ড পাওয়া যায়।
একই যাত্রীর কাছ থেকে ৮ কেজি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম ও ১৪ কার্টন মন্ড সিগারেটও জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে এসব পণ্যের শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য ৯৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
১৮ আগস্ট কলম্বো থেকে আসা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের এক যাত্রীর ব্যাগেজে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন মডেলের আইফোন ও রেডমি ফোন, আইফোনের এসকেডি ফ্রন্ট ও ব্যাক পার্টস এবং ২ হাজার ৪৮২ পিস বিদেশি ওষুধ উদ্ধার করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৪ লাখ ২ হাজার টাকা।
২০ আগস্টের অভিযানে দুবাই ও বাহরাইন থেকে আসা তিনটি ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছ থেকে ২১ কার্টন সিগারেট, ৬৯ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম, ২৯ দশমিক ৪ কেজি মিল্ক পাউডার এবং ১১৬ পিস ক্রিমজাতীয় ওষুধ জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের শুল্ক-করসহ মূল্য প্রায় ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৬৪০ টাকা।
একই দিনে আরও কয়েকটি ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে ৮৩ কার্টন সিগারেট, ১৯৮টি ভ্যাপ, ১০টি রেডমি নোট ১৫, ৩৬ কেজি গৌরি ক্রিম ও ৪ লিটার বিদেশি মদসহ বিভিন্ন পণ্য আটক করা হয়। এসবের আনুমানিক মূল্য ৮০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।
২১ আগস্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দুবাই থেকে আসা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের যাত্রীকে গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় আটক করা হয়। তার ব্যাগে বিভিন্ন মডেলের আইফোন ও পিক্সেল ফোন, ১৬১ কার্টন মন্ড সিগারেট, হোয়াইটেনিং সিরাম ও দুটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়।
এ ছাড়া আরও দুটি ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি করে বিদেশি মদ, ভ্যাপ লিকুইড ও সিগারেট জব্দ করা হয়। ওই দিনের অভিযানে উদ্ধার করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।
সিআইআইডি জানিয়েছে, চোরাচালানকারীরা কৌশল পরিবর্তন করায় বিমানবন্দরে গোয়েন্দা নজরদারি ও যাত্রী প্রোফাইলিং আরও জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান ও অবৈধ আমদানির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।