বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই ঢাকায় থাকা বিদেশি দূতাবাস ও বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুভেচ্ছা বার্তা আসতে শুরু করে।
নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানানো দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে চীন। ঢাকায় চীনা দূতাবাস এবং বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তায় বাংলাদেশ-চীনের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরা হয়। মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে চীন।
বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমা অংশীদার যুক্তরাজ্যও নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন জানিয়েছে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে দেশটি।
ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বার্তায় দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। জ্বালানি, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

এর আগে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান। অভিনন্দন বার্তায় তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুলকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
ইউরোপ থেকেও এসেছে অভিনন্দন বার্তা। ফ্রান্সের ঢাকাস্থ দূতাবাস এক বার্তায় নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও মানবাধিকার সুরক্ষায় তার ভূমিকার প্রত্যাশা করেছে।
সুইজারল্যান্ড ও জার্মানিও পৃথক বার্তায় মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সুইজারল্যান্ড দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। আর জার্মানি বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার আশা প্রকাশ করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলও বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য আরও বাড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
কূটনৈতিক মহলের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে দ্রুত অভিনন্দন বার্তা আসা বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।