রাজধানীর সবুজবাগের বাসাবো কালভার্ট রোড এলাকায় ময়লার স্তূপ থেকে খণ্ডিত এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাহিদাসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিচয় সুরাইয়া আক্তার ফালানি হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তাঁর শরীরের বাকি অংশ এখনো উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট রাতে সবুজবাগের বাগানবাড়ি এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনে ফালানিকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে চাপাতি দিয়ে মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে গুম করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে এরই মধ্যে বিচ্ছিন্ন দুই হাত ও মাথা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে গলা থেকে বুক পর্যন্ত অংশ এবং দুই পা এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এসব অংশ উদ্ধারে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুলিশের তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাহিদা ও কবির আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নিহত ফালানি এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পরস্পরের পরিচিত ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের। তারা মাদক সেবনে অভ্যস্ত ছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
আদালতে দেওয়া সাহিদার জবানবন্দির বরাতে তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, সাহিদার স্বামীর সঙ্গে ফালানির কথিত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সাহিদার সঙ্গে ওই ব্যক্তির সম্পর্কের প্রকৃতি কী ছিল, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না কিংবা ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে তদন্তকারীদের ধারণা, মরদেহের বাকি অংশের কিছু অংশ পানির স্রোতে নদীসংলগ্ন এলাকায় চলে যেতে পারে। এ কারণে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাথা ও দুই হাতের পর মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।