নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’। ‘এক দেশ, এক কিউআর’ নীতি বাস্তবায়নের পর নগদ অর্থের বিকল্প হিসেবে এ ব্যবস্থার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাত্র আট সপ্তাহে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৫৭৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
গত ২৮ জুন থেকে শনিবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা কিউআর ব্যবহারে লেনদেনের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি এর আর্থিক পরিমাণও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশে বিভিন্ন ধরনের কিউআর কোডের পরিবর্তে বাংলা কিউআর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এই প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ১ জুলাই থেকে দেশের সব প্রোপ্রাইটরশিপ প্রতিষ্ঠানে অন্যান্য কিউআরের বদলে বাংলা কিউআর রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়।
তথ্য বলছে, জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ৭৮ হাজারটি লেনদেন সম্পন্ন হতো। এসব লেনদেনে দৈনিক গড় অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
তবে সময়ের সঙ্গে ব্যবহারের পরিধি দ্রুত বেড়েছে। সর্বশেষ সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে। একই সময়ে দৈনিক লেনদেনের গড় অর্থমূল্য বেড়ে হয়েছে প্রায় ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
অর্থাৎ, বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা কিউআর চালুর পর লেনদেনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার পাশাপাশি লেনদেনের মোট অর্থমূল্য প্রায় তিন গুণে পৌঁছেছে।
শুধু লেনদেনের পরিমাণ নয়, বাংলা কিউআর গ্রহণকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। গত ১ জুলাই যেখানে প্রায় ১৬ লাখ মার্চেন্ট বাংলা কিউআর ব্যবহার করতেন, বর্তমানে সেই সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে।
বেসরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও বাংলা কিউআর ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখছে। ফলে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারের সুযোগ আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, সহজে ব্যবহারযোগ্য একক কিউআর ব্যবস্থা চালু থাকলে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি দেশে ক্যাশলেস লেনদেনের পরিমাণ আরও বাড়বে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন জানান, নগদবিহীন লেনদেনকে আরও জনপ্রিয় করতে বাংলা কিউআরকে সহজ ও গ্রাহকবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি পর্যায়েও বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অংশীজনদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিপর্যায়ে সেবা চালু হলে দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার আরও ব্যাপক আকার ধারণ করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।